৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

নানিয়ারচর থানার ওসি‘র বছরপূর্তিতে বদলে গেছে থানার সেবার মান

নানিয়ারচর প্রতিনিধিঃ পুলিশের দর্শন এবং মূলনীতি হলো অপরাধ দমন এবং অনিয়মকে প্রতিহত করা। এই দর্শন এবং মূলনীতিকে কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাষ্ট্র গঠন করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা করে আমাদের দেশে জনমুখী পুলিশিং এর চর্চা করা হবে। সেই প্রত্যাশা পূরুণে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাব্বির রহমান থানায় যোগদানের এক বছরের মাসের মধ্যে নিজের সততা, মেধা, বিচক্ষণতা কর্মদক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে নানিয়ারচর উপজেলার সাধারণ মানুষের মন জয় ও পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছেন।

তথ্য অনুসন্ধানের জানা যায় যে, নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে মোঃ সাব্বির রহমান গত ৭ই মে ২০২০ খ্রিঃ তারিখ থানায় যোগদানের পরপরই তার কিছু ব্যতিক্রমী উদ্দেগ্যে পাল্টে যায় নানিয়ারচর উপজেলার দৃষ্টপট। তিনি প্রকাশ্য উপজেলা মাসিক সভা ঘোষণা দিয়েই থানাকে সর্বপ্রথম ঘুষ ও দালাল মুক্ত, সাধারন মানুষের জন্য পুলিশি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। করোনাকালীন সময়ে থানায় সেবাপ্রার্থী সাধারন মানুষ যেন কোন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখেন। পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব, হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে নানিয়ারচর থানায় ‘কুইক রেসপন্স এন্ড বেস্ট প্র্যাকটিস’ নামে ব্যতিক্রমধর্মী পুলিশি সেবা চালু করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী, পর্যটক, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের দ্রুততার সাথে আইনি সেবা দেওয়ার জন্য থানা খোলা হয়েছে আলাদা আলাদা হেল্প ডেস্ক। যার সুফল পাচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশী মানুষ। এখন ওসির সততা অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে নানিয়ারচর থানায় জিডি কিংবা মামলা করতে, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা পেতে কোন টাকা লাগে না। সেবাপ্রত্যাশী পাহাড়ী ও বাঙ্গালী মানুষ এখন পুলিশের কাছে আসতে ভয় পায় না।

নানিয়ারচর থানার সুত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মোট মামলা হয়েছে ১৯টি এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ০২টি, মামলা নিষ্পত্তি করে কোর্টে প্রেরণ হয়েছে ২০টি। মামলা নিষ্পত্তির মধ্যে অন্যতম ২০১৮ সালে করা নানিয়ারচর প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)এর সভাপতি বর্মা হত্যা সহ ৫ হত্যা মামলা। বর্তমানে ০১টি মামলা তদন্তধীন রয়েছে। গত ৫ বছরের তুলনায় চলতি বছরে থানায় মামলার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
নানিয়ারচর থানার ওসি মোঃ সাব্বির রহমান জানান, সুন্দর আচারণ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আইনগত সেবা প্রদানে নানিয়ারচর থানা বদ্ধপরিকর। মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক সহ অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে।

করোনাকালীন সময়ে গত এক বছরে তিনি মাদক কার্বারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যূদের দমন, বিপুল পরিমাণ ফরমালিনযুক্ত আনারস ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস, চোরাই গরু উদ্ধার, সবজি বাগান প্রকল্প, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ সহ বিভিন্ন জনকল্যানমূখী কাজের মাধ্যমে বেশ প্রশংসা অর্জন করেছেন। তার নেতৃত্বে কোভিড-১৯ যুদ্ধে নানিয়ারচর উপজেলার মতো একটি দুগম ও আঞ্চলিক সন্ত্রাসী কবলিত বিভিন্ন এলাকায় থানার পক্ষ হতে প্রতিদিন স্বাস্থ্য বিধান সামগ্রী বিতরনসহ কাঁচাবাজার, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের দোকানে বাধ্যতামূলক সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো, হোম কোয়াইন্টনে থাকা রোগীদের বাসায় ওষুধ ও নিত্যপণ্য পৌঁছানো, আবাসস্থল সংলগ্ন এলাকা লকডাউন ও আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আইসোলেশন ও হোমকোয়ান্টাইন নিশ্চিত, করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় বিধি মেনে মৃত ব্যক্তির সৎকার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব সাথে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নানিয়ারচর থানার পুলিশ কাজ করছে।

নানিয়ারচর থানার ওসি সাব্বির রহমানের ব্যতিক্রম ধর্মীয় কিছু উদ্দেগ্যের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত আনারস বাজারজাতকরণ, সরকারী নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য নিধন বন্ধ ও করোনা রোগীদের আইসোলেশন ও হোমকোয়ান্টাইনের পাশাপাশি লকডাউনে কঠরতা প্রয়োগের মাধ্যমে নানিয়ারচর উপজেলাকে করোনা মুক্ত অঞ্চলে পরিনত করেন। তার যোগদানের পর বাঙ্গালী-পাহাড়ী শান্তিকামী মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা ফিরে এসেছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ওসি মোঃ সাব্বির রহমান বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরো জোরদার করে নানিয়ারচর জোনের সেনাবাহিনীর সার্বিক সহায়তায় নানিয়ারচর উপজেলার মতো সন্ত্রাসী কবলিত একটি দুর্গম পাহাড়ী এলাকা থাকা স্বত্ত্বেও আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্টির বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড বন্ধে অনেকটা সফল হয়েছেন।

এলাকার দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ মিমাংসাসহ এলাকার বহু পুরাতন বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, জুলুমবাজ, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যূ, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন ও আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। মানুষের মুখে শোনা যায় তার প্রশংসার কথা। নানিয়ারচর উপজেলার সাধারণ নাগরিকরা বলেন দেশের প্রতিটি থানার ওসি যদি নানিয়ারচর থানার ওসি সাব্বির রহমানের মতো সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে তাহলে মাদক, চোরাচালান, ঘুষ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত এই দেশ হতো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। তিনি কাজ করে যাচ্ছে দায়িত্ববোধের সাথে, যা মানুষকে ভালোবাসার এক অন্যরকম বহিঃপ্রকাশ। এজন্য তিনি ‘সাদা মনের’ পুলিশ হিসেবে ইতোমধ্যে নানিয়ারচর উপজেলার সবার কাছে পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা।

সর্বশেষ নিউজ