৪, আগস্ট, ২০২১, বুধবার

নারী সহকর্মীকে কলেজ অধ্যক্ষের কুপ্রস্তাব, রাজি না হলেই চাকরিচ্যুত!

সহকর্মীকে যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে ভুয়া ভাউচারে কলেজের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, নিয়োগে অনিয়মসহ নানা অভিযোগে উঠেছে রাজধানীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে।

এসব অর্থে অভিজাত ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি, ব্যাংকের অঙ্ক বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। তবে তা অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ। বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে প্রমাণ হলেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর।
ব্যক্তিগত কারণে পছন্দ না হলেই নানা অভিযোগ দিয়ে চাকরিচ্যুতিতে বাধ্য করা এমনকি যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রেকর্ড করা অডিওটি একজন সহকর্মীর সঙ্গে মিরপুর কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের। সেই রেকর্ডে বলতে শোনা যায়…. আমি তখন আনমেরিড ছিলাম, আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম তোমাকে ভালো লাগত। ভালো লাগার চোখে দেখতাম। আমার খুবই ভালো লাগত তোমার মিষ্টি চেহারা। এতে করে একটা আত্মিক …যাকে সুন্দর লাগে যাকে ভালো লাগে একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। রেকর্ডের কিছুদূর যাওয়ার পর গণমাধ্যমে তা প্রকাশের যোগ্য নয়।
এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি স্যারের কাছে জানতে চাই যে, আমার চেয়ারম্যানশিপটা কেড়ে নেওয়ার কারণটা কী, আমি কি কাজে ব্যর্থ হয়েছি। তখন তার একটাই কথা ছিল আমার কাছে আসতে হবে, বসতে হবে।

সময়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও অনিয়ম করে ২০১২ সালের ৫ মে গভর্নিং বডি সভায় বিবিধ হিসেবে অনুমোদন করা হয়। সেখানেও করা হয় শব্দের কাটাছেঁড়া।
নৈতিক স্খলন ছাড়াও কলেজের আর্থিক, উন্নয়ন, ক্রয়, এমন কোনো খাত নেই, যেখানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। কলেজের শিক্ষক নিয়োগে একটি নিয়োগপত্রে প্রথম হওয়া ক্যান্ডিডেটকে চাকরি না দিয়ে চাকরি দেন

অন্যদের। নেওয়া হয়নি অনাপত্তিপত্রও। এ ছাড়া হাতে পাওয়া বিভিন্ন সময়ের নিয়োগপত্রে দেখা যায়, কারো কারো নামের পাশে কাটাছেঁড়া করে বাড়ানো হয়েছে পরীক্ষার নম্বর। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কলেজের শিক্ষক হিসেবে। এ ছাড়া কলেজের বাইরে ম্যানুয়ালি হাতে লিখে বিভিন্ন ভাউচার তৈরি করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত খরচ তোলা, সভা না করে সেসবের টাকাও তুলে নিয়েছেন চাপ দিয়ে অভিযোগ সহকর্মীদের।
এ ছাড়া কলেজের অর্থ তছরুপ করে নিজের সম্পদও বাড়িয়েছেন অধ্যাপক ওয়াদুদ, এমন অভিযোগ জমা পড়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন মিরপুর কলেজের অধ্যক্ষ।
তিনি বলেন, তদন্ত চলছে এটার প্রমাণ সরকার করবে।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা।
তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, অভিযোগের প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় শিক্ষা অধিদপ্তর।
শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেরজ ও প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি বেরিয়ে আসলে আমাদের নিয়মানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে আমাদের যে বিধিবিধান আছে সেই আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা অধিদপ্তর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না বলেও জানান শিক্ষা পরিবারের এ অভিভাবক।

সর্বশেষ নিউজ