১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

না মরা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাও, পুলিশকে মিয়ানমারের প্রশাসন

বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি ছুড়তে মিয়ানমারের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ভারতে পালানো পুলিশ কর্মকর্তারা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল তাদের। সে আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর পর ধরপাকড় এড়াতে ভারতে পালাতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ মিয়ানমারের খামপেট শহরে পুলিশের ল্যান্স কর্পোরাল থা পেংকে তার সাবমেশিনগান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেয় সেনাবাহিনী। কিন্তু তিনি ওই আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানান।

পরদিন এক কর্মকর্তা তাকে ডেকে জানতে চান, তিনি গুলি করবেন কিনা। থা পেং তখনও ‘না’ বলেন এবং পরে বাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। ১ মার্চ তিনি বাড়ি ও খামপেটে থাকা পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে ভারতীয় সীমান্তের দিকে রওনা হন।

তিন দিন পর পৌঁছান ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিজোরাম রাজ্যে। প্রশাসনের চোখ এড়াতে তাকে বেশিরভাগ সময় রাতেই ভ্রমণ করতে হত। ‘আমার আর অন্য কোনো বিকল্প ছিল না’

দোভাষীর সাহায্য নিয়ে মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন থা পেং।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অন্য পুলিশ সদস্যরাও জানিয়েছেন, তাদেরকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

না সরে গেলে গুলি করে সবাইকে মেরে ফেলতে বলা হয়েছিল। সে আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর পর ধরপাকড় এড়াতে ভারতে পালাতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

রয়টার্সের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, গতকাল বুধবার মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

ইয়াঙ্গুনের নর্থ দাগনে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালনের সময় রেলকর্মীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সেনা মদদপুষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী। ছত্রভঙ্গ করতে নির্বিচারে গুলি চালায় তারা।

ম্যান্দালেতেও জান্তাবিরোধীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাওয়ে’ই শহরে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।

কিন্তু সেনাবাহিনীর এহেন কঠোরতা সত্ত্বেও দমে যেতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা। দিনদিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে ক্যু’বিরোধী বিক্ষোভ। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষসহ দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৌদ্ধ ভিক্ষু আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সেনা শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন সেনাবাহিনী নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ বেসামরিক সরকারের শীর্ষ নেতাদের আটক এবং রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে অচলাবস্থা শুরু হয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের হাতে অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এরপরও বিক্ষোভকারীরা প্রতিদিনেই রাস্তায় নামছেন এবং গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তিসহ গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র : রয়টার্স

সর্বশেষ নিউজ