৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

নড়িয়ায় ডাঃ গোলাম মাওলা সেতুর এপ্রোচ ডিজাইন পরিবর্তনের দাবি এলাকাবাসীর

নাছির আহম্মেদ আলী, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের নড়িয়ার কীর্তিনাশা নদীর উপর ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা উড়াল সেতুর এপ্রোচ ডিজাইনের পরিবর্তন করার দাবি করেছে এলাকাবাসী। বর্তমান ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হবে ও সেতু পদ্মা নদীর ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকবে বলেও আশংকা তাদের। পাশাপাশি সরকারের অধিক রাজস্ব ব্যয় হবে। জেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট এসে সরেজমিন সার্ভে করে ডিজাইন করে দিয়েছে। তাদের দেয়া ডিজাইন অনুযায়ী প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মোঃ শাহাব উদ্দিন খান এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, নড়িয়া বাজারের পশ্চিম পাশের্^ পদ্মা নদীর সন্নিকটে কীর্তিনাশা নদীর উপর ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা সেতুটি বিনষ্ট হওয়ার কারণে ৪/৫ বছর যাবৎ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এ সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার কয়েকটি ইউনিয়নের জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। গত ২/৩ বছর পূর্বে এলজিইডি এ সেতুটির পাশর্^ দিয়ে নুতন করে সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। সেখানে জনসাধারণের সুবিধা মতে পূর্বের সেতুর ডিজাইন অনুযায়ী প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ১৪৫ মিটার একটি সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে। ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর পূর্ব পাশের এপ্রোচ ছিল ব্রীজ থেকে সরাসরি বাজারের মেইন সড়কের দিকে। দরপত্রের সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে নাভানা গ্রুপ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে সেতুর পশ্চিম পাশের পিলার ও নদীর মাঝ খানের একটি পিলার নির্মাণ কাজ শেষ করে। সেতুর কাজ চলমান অবস্থায় গত দু’বছর পূর্বে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনের ফলে নড়িয়া পৌর এলাকাসহ মোক্তারেরচর, কেদারপুর ও নড়িয়া বাজারের বেশ কিছু এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সেতুটির মাত্র ৫০০ গজ দূরে চলে আসে পদ্মা নদী। সেতুটি ভয়াবহ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

এ অবস্থায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা আর কাজ করেনি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর এলজিইডি পুনরায় নুতনভাবে ডিজাইন করে ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকায় ব্যয় ধরে ৩২৭ মিটার একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ ডিজাইনে মূল সেতুর সাথে ফ্লাইওভার করে (ভায়া ডাক) কীর্তিনাশা নদীর পূর্ব পাড়ে এসে বামদিকে মোড় দিয়ে কীর্র্তিনাশা নদীর পাড় ঘেঁষে সোজা উত্তর দিকে গোডাউন ঘাট হয়ে পোস্ট অফিসের পাশদিয়ে বাজারে ঢুকবে এপ্রোচ সড়ক। এতে করে স্বানীয় অনেক লোকের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশংকা করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সেতুটি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়বে বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। কেন না গোডাউন ঘাট থেকে পদ্মা নদী মাত্র ৪০/৫০ গজ দূরে। যেখানে পানির গভীরতা হবে কমপক্ষে ১৫০ ফুট। বর্তমান ডিজাইন অনুযায়ী এ সেতুটি নির্মিত হলে সরকারের অনেক বেশী টাকা ব্যয় বাড়বে। সেতুটি ভাঙ্গনের ঝুঁকি থাকবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণ বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তাই এলাকার জনসাধারণ সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন করে পুর্বের ডিজাইনে সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান শেখ, বাবুল চৌকিদার, আলী সিকদার ও জিন্নাত আলী পেদা বলেন, নুতন ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে সেতুটি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পড়বে। এলাকাবাসীসহ আমাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনষ্ট হবে। পাশাপাশি সরকারের বিরাট অংকের টাকা ব্যয় বাড়বে। আমরা সেতুর ডিজাইন পরিবর্তনের দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে নড়িয়া বৈশাখী পাড়া এলাকার বাসিন্দা সবুজ শেখ, সুলতান চৌকিদার বলেন, পূর্বের ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের অনেক বেশী সুবিধা হবে। সেতুর ভাঙ্গন ঝুঁকি কম থাকবে। সরকারের টাকা বাঁচবে। আর নুতন ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মোঃ শাহাব উদ্দিন খান বলেন, এ সেতুটি অনেকদিন যাবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপূর্বে একবার সেতুর দরপত্র আহবান করে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। ঠিকাদার কিছু কাজ করে আর করেনি। কোন যোগাযোগও করেনি। এরপর নুতনভাবে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট এসে সরেজমিন সার্ভে করে ডিজাইন তৈরি করে মূল সেতুর সাথে (ভায়া ডাক) উড়াল সেতু যোগ করে দেয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান ফরাজী বলেন, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামূল হক শামীম এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে ডিজাইন করা হয়েছে। মূল ব্রীজ থেকে সোজা এপ্রোচ দিলে দু’পাশের দোকানপাট বেশী ক্ষতি হবে। তাই ব্রীজটি দৃষ্টিনন্দন করার জন্য এভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ