১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

পরীমণির পোস্টে আইজিপির নাম কেন, অবাক পুলিশ

চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণি তার ফেসবুকে যে পোস্ট করেছেন, তাতে পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের নাম কেন এলো সেটা বুঝতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরীমণি ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কোনোভাবে আইজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

বেনজীর আহমেদ সব সময় নারী ও শিশুদের সাথে ঘটা অপরাধের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীমণিকেও যথাযথ আইনি সহযোগিতা দেয়া হবে। [ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত নাসির]

রোববার রাতে পরীমণি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়ার পর তোলপাড় হয়ে যায়।

সেই পোস্টে এই নায়িকা কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে পারেননি এবং পরিচিতজনদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি-এমন কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।

এর মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে ‘বেনজীর’ এর নামও উল্লেখ করেন পরীমণি। তবে তার বিরু’দ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।

তিনি লেখেন, এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা।

ঘণ্টা দুয়েক পর গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে গত বুধবার রাতের যে বর্ণনা পরীমণি দেন, তাতেও তিনি বেনজীর আহমেদের কথা উল্লেখ করেন। তবে তার নিজের মুখ নয়, প্রসঙ্গটি এসেছে সন্দেহভাজন নাসির ইউ মাহমুদের বরাত দিয়ে।

পরীমণি জানান, নাসির এক পর্যায়ে তাকে বলেন, ‘তোকে বে বাঁচাবে? বেনজীর?’ এই কথা বলে নাসির তার ফোন ছুড়ে দেন পরীমণির কাছে। বলেন, ‘নে তাকে ফোন দে।’

নাসির উ মাহমুদ যে বোট ক্লাবের সদস্য, সেটির চেয়ারম্যান আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তবে এই ক্লাবের অন্য কারও দায় আইজিপির ওপর আসার কোনো কারণ নেই।

পরীমণি এও অভিযোগ করেন যে, বনানী থানায় গিয়ে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। থানা তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেনি ‘স্যার’ না থাকায়। তখন পরীমণি তাকে হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করলে এভারকেয়ার হাসপাতালের ফটকে তাকে রেখে যায় পুলিশ।

পুলিশের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা বলেন, একটি বিষয় পরিষ্কার না, আইজিপি মহোদয়কে তিনি (পরীমণি) কেন মেনশন করলেন তার পোস্টে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কোনোভাবে আইজিপি মহোদয়কে যোগাযোগ করেননি।

সোহেল রানা বলেন, আইজিপি মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে নারী ও শিশুর প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল। সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে ফিল্ড ইউনিটগুলোকে এসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

পরীমণি অভিযোগ সামনে আনার পর পুলিশ কী করেছে, তাও জানান বাহিনীটির কর্মকর্তা। বলেন, গতকালই এ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। রাতেই তার (পরীমণি) বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাকে বিশদে শুনেছে।

তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেয়া হয়েছে। তার এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ বা পুলিশের পক্ষ থেকে যে সাপোর্টগুলো রয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে দেব।

এরই মধ্যে পরীমণির অভিযোগ এজাহার হিসেবে থানায় জমা পড়েছে। প্রথমে অভিযোগটি দেয়া হয়েছিল রাজধানীর রূপনগর থানায়। পরে সেখান থেকে ঘটনাস্থল যে থানার আওতাধীন, সেই সাভার থানায় পাঠানো হয়।

সর্বশেষ নিউজ