১৩, জুন, ২০২১, রোববার

পিএসজির দুর্দান্ত গতি আর শক্তির কাছে বার্সার অসহায় আত্মসমর্পণ

চার বছর আগে এই আঙিনায় হয়েছিল ভরাডুবি। এবারও প্রথমে গোল হজম করে বসল তারা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল পিএসজি। কিলিয়ান এমবাপের অসাধারণ হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল প্যারিসের দলটি।

কাম্প ন্যু’তে মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৪-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে গেলেও প্রতিপক্ষের আক্রমণের তোপে ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। বিজয়ীদের আরেক গোলদাতা মোইজে কিন।

এই সময়ের সেরাদের একজন বলে মনে করা হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে এমবাপের পারফরম্যান্স ছিল না বলার মতো। আগের নয় নকআউট ম্যাচে পেয়েছিলেন মাত্র একটি গোল।

তবে পূর্বের সব হতাশা যেন এক ম্যাচেই ঝেড়ে ফেললেন তিনি। গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণ কাঁপিয়ে উপহার দিলেন স্মরণীয় এক পারফরম্যান্স।

বার্সার শুরুটাই অবশ্য ভালো হয়েছিল কাল, ২৬ মিনিটে ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ংকে পেছন থেকে ফেলে দেওয়া হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেখান থেকে গোল করে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর উসমান দেম্বেলে ১০ গজ দূর থেকে সহজ একটা সুযোগ নষ্ট করেন। তখন কে জানত, এই মিসের জন্য এত বড় মাশুল দিতে হবে?

গোল শোধ করতে অবশ্য বেশিক্ষণ সময় নেয়নি পিএসজি। ৫ মিনিট পরেই মার্কো হেরাত্তির দুর্দান্ত একটা ফ্লিক থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান এমবাপে। ক্লোজ রেঞ্জে মার্কারকে ছিটকে ফেলে বাঁ পায়ের বুলেট শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। প্রথমার্ধে আর কেউ গোল করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটা পেয়ে যায় পিএসজি। বক্সের ভেতর আসা বলটা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন টের স্টেগেন। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি এমবাপে, পেয়ে গেছেন দ্বিতীয় গোল। তবে নিজের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন ৮৫ মিনিটের জন্য। দারুণ একটা প্রতিআক্রমণ থেকে ফার্স্ট টাচে বাঁকানো শটে গোল করে পেয়ে যান হ্যাটট্রিক। ন্যু ক্যাম্পে এসে বার্সার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে এই প্রথম কেউ হ্যাটট্রিক করলেন। ন্যু ক্যাম্পের বাইরে এই কীর্তি ছিল মাত্র দুজনের, ফাউস্তিনো আসপ্রিয়া ও আন্দ্রি শেভচেঙ্কো। ও হ্যাঁ, ৭০ মিনিতে তৃতীয় গোলটা পেয়ে যায় পিএসজি। পারেদেসের সেট পিস থেকে গোল করেন ময়েজ কিন। এরপরও কিন গোল পেতে পারতেন, টের স্টেগেনের জন্য হয়নি। জয়ের ব্যবধানও বড় হয়নি।

এই জয়ের পর পরের পর্বে এক পা দিয়েই রাখল পিএসজি। তবে তাদের সতর্ক থাকতে হবে, চার বছর আগে ৪-০ গোলে প্রথম লেগ জিতেও হেরে গিয়েছিল তারা। তবে ২০ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় লেগের এবারের ম্যাচটা নিজেদের মাঠে, সেখানে ফিরতে পারেন নেইমার। আর বার্সার রক্ষণের এই হতশ্রী দশার সুযোগ নিতে আরেকবার মুখিয়ে থাকবেন এমবাপেরা। কাল পিএসজি বার্সাকে যে স্বাদ দিয়েছে, নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগে এই তিন গোলের স্বাদ সর্বশেষ দিয়েছিল জুভেন্টাস। পর পর দুই ম্যাচে এমন অভিজ্ঞতা বার্সারও কখনো হয়নি।

কালকের ম্যাচের পরেই রোনাল্ড কোমানকে নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। তবে বার্সা কোচ বলেছেন, পদত্যাগের কোনো ভাবনাই তার মধ্যে নেই।

সর্বশেষ নিউজ