১, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার

পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছেলে

বরিশালে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের মুঠোফোনে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে এক ব্যক্তি পিঠের সাথে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটছেন। মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা এক নারীর নাকে ন্যাজেল ক্যাথেটার লাগানো। ওই ক্যাথেটারের মাধ্যমে ওই নারী সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন নিচ্ছেন।

ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ মোর্শেদ টুটুল জানান, শনিবার দুপুরে তার ডিউটি ছিল বরিশাল বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায়। দুপুর তিনটার দিকে তিনি দেখতে পান মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তি এক নারী আরোহীকে নিয়ে যাচ্ছেন। মোটরসাইকেলের চালক ব্যক্তির পিঠের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধা রয়েছে। আর আরোহী নারীর মুখে মাস্ক পরানো। সিলিন্ডার থেকে নল দিয়ে নারী আরোহী অক্সিজেন নিচ্ছেন। এ দৃশ্য দেখার পর তিনি মোটরসাইকেলটিকে না থামিয়ে চলে যাওয়ার সংকেত দেন। এসময় ওই দৃশ্য তিনি তার মুঠোফোনে ধারণ করেন। এরপর দুপুর সাড়ে তিন টার দিকে ছবিটি তিনি ফেসবুকে তার আইডি থেকে পোস্ট দেন।

ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ মোর্শেদ টুটুল বলেন, করোনা নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে তিনি ওই ছবি পোস্ট করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, তার পোস্ট করা ছবিটি অনেকে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। অনেকে করোনা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য পোস্টে মন্তব্য করেছেন।

তৌহিদ মোর্শেদ টুটুল বলেন, ছবিটি পোস্ট করার পর পরিচিত-অপরিচিত অনেকে মোটরসাইকেল আরোহী দুইজনের পরিচয় ঠিকানা ম্যাসেঞ্জারে জানতে চান। পরিচিত কেউ কেউ আবার ফোন করেছেন। রাতে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠী শাখার কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান। পেছনে বসা ছিলেন জিয়াউল হাসানের মা রেহানা পারভিন। তারা থাকেন ঝালকাঠী জেলার নলছিটি পৌর শহরে। রেহানা পারভিন নলছিট বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন রেহানা পারভিন। শনিবার দুপুরে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ছেলে জিয়াউল হাসান তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোটরসাইকেলে করে ভর্তির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এদিকে ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ মোর্শেদ টুটুলের সূত্র ধরে অসুস্থ রেহানা পারভিনের বোনের ছেলে নাঈম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তার খালা রেহানা পারভিন সর্দি জ্বর কাশিতে আক্রান্ত হন। করোনা সন্দেহ হলে গত মঙ্গলবার শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

নাঈম হোসেন বলেন, তার খালা রেহানা পারভিন বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে শনিবার সকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দুপুরে শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয়। কিন্ত লকডাউনের কারণে খালাকে মেডিকেলে নেয়ার মত যান বাহন পাওয়া যাচ্ছিলো না। আবার কেউ কেউ করোনা রোগী শুনে তাদের গাড়িতে নিতে রাজি হচ্ছিল না। এ কারণে কোন উপায় না দেখে পিঠের সাথে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে তাকে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল মেডিকেলে নিয়ে যান খালাতো ভাই জিয়াউল হাসান।

নাঈম হোসেন বলেন, খালা রেহানা পারভিন বর্তমানে মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। এখন তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।

সর্বশেষ নিউজ