১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

‘পুলিশি শাসন চলছে, রাজনৈতিক দল মাঠে নামতে পারছে না’

দেশে এখন পুলিশি শাসন চলছে। কোথাও আওয়ামী লীগের শাসন নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারছে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে এ সরকারকে বিদায় করতে সবাইকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

মান্না বলেন, গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান সরকার গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই নয়; সব গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকারের অপশাসনে ভবিষ্যত প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ সরকারকে হঠাতে না পারলে দেশ বাঁচানো যাবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আসবে না।

‘১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র একাংশ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

এতে বক্তব্য দেন কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিইউজের একাংশের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত ও রাশেদুল হক, বিএফইউজের একাংশের নির্বাহী সদস্য একেএম মহসীন প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিইউজের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার।

শওকত মাহমুদ বলেন, ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে বলেই সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কালাকানুন করে বাক-স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। আমাদের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অথচ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা বা চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে কোনো আইন নেই। মিথ্যা মামলায় সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হলেও বিচার বিভাগ থেকে তার মুক্তি মিলে না।

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে প্রেস ফ্রিডম না থাকলেও ওই দেশের বিচারপতিরা সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় সাংবাদিক আটককে অবৈধ ঘোষণা করে বলেছেন- সরকারের সমালোচনা করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়।

সভাপতির বক্তব্যে এম আবদুল্লাহ বলেন, ’৭৫-এর ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ‘কালো দিবস’ পালন করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে গাঢ় কালো দিবস কোনটি সেটি এখন বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সময় তিনি দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বন্ধ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন, দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও সম্পাদক আবুল আসাদ এবং ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গত ১২ বছরে শত শত কালো দিবস তৈরি করেছে এ সরকার। এ সরকার গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না।

সর্বশেষ নিউজ