১৩, জুন, ২০২১, রোববার

পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি করে হত্যা গত এক মাসেও আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ,আতংকে জনপথ ৭ গ্রাম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরের জাজিরায় উপজেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে আগ্নেঅস্ত্র দিয়ে ফোরহাদ হোসেন মল্লিক(২২) কে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামী আব্দুল জলিল গোমস্তাসহ মুল আসামীদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি জাজিরা থানা পুলিশ। নামমাত্র কিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হলেও সন্ধান মিলেনি জলিল গোমস্তা ও তার ভাগিনা জুলহাস বেপারীর বাহীনির অবৈধ অস্ত্র ভান্ডরের। এতে করে চরম আতংকে রয়েছে ৭ গ্রামের মানুষ। অনেকেই মুখ খূলতে সাহস পাই না ঐ বাহিনীর বিরুদ্ধে। গোমস্তা বাহিনীর কাছে ৭টি গ্রামের মানুষ এখন আতস্ক আর উৎকন্ঠার জনপথে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীরা।

নিহত মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মাদবরের ছেলে মোজাম্মেল মাদবর, নিহত ফোরহাদ মল্লিক এর বাবা তৈয়বালী মল্লিক ও জাজিরা থানা সুত্রে জানা যায়, গত ২০০৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন সমাজপতি আব্দুল জলিল গোমস্তা। সে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তার আপন দুই ভাই আলাউদ্দিন ওরফে আলাই গোমস্তা ও সালাউদ্দিন ওরফে সালাম গোমস্তা দক্ষিন কোরিয়া থেকে দেশে ফিরে আসে। এরপর তারা আব্দুস জব্বার সিকদার কান্দি, শাহেদালী গোমস্তার কান্দি, ইমান দি মল্লিকের কান্দি, দাদন আলী ঘরামীর কান্দি, আবেদালী মন্সির দুই কান্দি।

সমাজপতি আব্দুল জলিল গোমস্তা তার দুই ভাইসহ তাদের ভাগিনা জুলহাস বেপারীগ এসব এলাকায় গড়ে তুলে তারা তাদের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহীনি। এ বাহীনির হাতে একে একে খুন হন বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক ইউপি সদস্য সহ গত ৬ বছরে ৬ জন। পঙ্গুত্ব বরন করেন প্রায় ২ শতাধিক মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় হত্যা সহ ৫টি মামলা রয়েছে বলে জাজিরা থানা পুলিশ জানান। অপর দিকে মাদারীপুর জেলার শিবচর থানায় হত্যা সহ ৩টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানান।

গত ২৯ জানুয়ারী জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা এলাকায় তাহের আলী মল্লিক কান্দি এলাকায় ঢাকার ব্যাবসায়ী ও শিল্পপতি খলিলুর রহমান তালুকদারের ক্রয়কৃত জমিতে বালু বরাট করার সময় সন্ত্রাসী বাহীনি বাধা দেয় ও চাঁদা দাবী করে। তবে ব্যবসায়ী তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করে জাজিরা থানা পুলিশকে জানায়। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা আজারুল ইসলাম সরকার, জাজিরা থানার এস আই মাহফুজুর রহমানসহ দুইজনর কনষ্টেবল পাঠায়।

সেখানে সন্ত্রাসী বাহীনি পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দিবালোকে অবৈধ আগ্নেঅস্ত্র¿ দিয়ে গুলি চালায়। এতে গুলিবৃদ্ধ হয়ে পশ্চিম নাওডোবা হাজী তাহের আলী মল্লিকের কান্দি গ্রামের তৈয়বালী মল্লিকের ছেলে পথচারী ফোরহাদ হোসেন মল্লিক(২২) ঘটনাস্থলে মারা যায়। তার শরীরে ময়না তদন্তে প্রায় ২০টি গুলি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। এ সময় একই এলাকার আলমগীর মুন্সির ছেলে দিদার মুন্সি (২২), লাল মিয়া মল্লিকের ছেলে রেজু মল্লিক(২৫)। গুলি বৃদ্ধ সহ প্রায় ২০জন মারাতœক আহত হয়।

এ ঘটনার পর জাজিরা থানায় নিহতের বাবা তৈয়বালী মল্লিক বাদী হয়ে ৬৬ জনকে আসামী করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর ১২ জন আসামীকে গ্রেফতার করলেও পুলিশ গত এক মাসে মামলা মুল আসামীসহ অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। পাশাপাশি নামে মাত্র কিছু অস্ত্র উদ্ধার করলেও বিভিন্ন সময় হত্যাকান্ডের সময় আগ্নেঅস্ত্র প্রদর্শনী করা কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এতে করে ৭ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আতংক হয়ে পড়েছে।

নিহত ফরহাদ হোসেন মল্লিকের বোন লাবনী আক্তার বলেন, আমার নিরপরাধ ভাইকে প্রকাশ্যে দিবালোকে জুলহাস বেপারী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ৪৩ টি গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যা কান্ডের বিচার চাই।
হাজী আব্দুস সামাদ হাওলাদার বলেন, ফোরহাদ মল্লিকে গুলি করে হত্যা করার সময় সন্ত্রাসী বাহিনী ২০/৩০ টি অস্ত্র দিয়ে গুলি চাললেও পুলিশ দু/একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। যা আমাদের জন্য খুবই আতংকের বিষয়। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত কাঠাল বাড়ী ঘাট ও এলাকায় চাদাঁ বাজি করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।

এ বিষয়ে জলিল গোমস্তার বাড়ী গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকার ব্যাবসায়ী ও শিল্পপতি খলিলুর রহমান তালকুদার বলেন, পদ্মা সেতুর পুর্ব পাড়ে কারখানা নির্মানের জন্য একটু জায়গা ক্রয় করি। সেটি জায়গা ভরাট করতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী আব্দুল জলিল গোমস্তা ও তার ভাগিনা জুলহাস বেপারীগংরা চাঁদা দাবী করে মাটি ভরাটে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা উপর্যুপরি গুলি চালায়। এত নিরীহ পথচারী ফোরহাদ মল্লিক নিহত হয়।

পঙ্গু ছোবহান মাদবর, ফজলুল হক বেপারী বলেন, সমাজপতির নাম করে জলিল গোমস্তা বাহীনির লোকজন বিয়ে বাড়ী থেকে শুরু করে জোর করে জমি বিক্রি, কাঠাল বাড়ী ঘাটে চাঁদাবাজী, জমি দখল, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রন সবই তাদের কাজ। ঈদের সময় সমাজের লোকজন বাড়ীতে দাওয়াত দিয়ে সেখানেও চাঁদাবাজি করে। প্রতিবাদ করলে শুধু মারপিট নয়, ভাগ্যে জুটে বুলেটের গুলি।

জাজিরা থানার এস আই মাহফুজুর রহমান বলেন, দু গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে আমি সহ আমরা তিন জন পুলিশ ঘটনাস্থলে রওয়ানা দেই। থানা থেকে পশ্চিম নাওডোবা এলাকাটি অনেক দুরত্ব হওয়ায় আমরা সেখানে পৌছানোর আগেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্থানীয় ফোরহাদ হোসেন মল্লিকসহ ৩ জন গুলি বৃদ্ধ হয়। আহতদের উদ্ধার করে তাদেরকে হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে ফোরহাদ হোসেন মল্লিক মারা যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জাজিরা থানার ওসি তদন্ত মিন্টু মন্ডল বলেন, আমি শুনেছি জাজিরা থানার ২ জন কনেষ্টেবল ও একজন এস আই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে কে গেছে তা বলতে পারবো না। ময়না তদন্ত রিপোট হাতে পেয়েছি। গুলির সংখ্যা বলতে পারবো না। তার সারা শরীরে গুলি বৃদ্ধ হয়েছিল।

সর্বশেষ নিউজ