২০, মে, ২০২২, শুক্রবার

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সেলিব্রিটি হচ্ছে কবিরা: কামাল চৌধুরী

আফসানা আফরোজ:

সত্তরের দশকের কবি কামাল চৌধুরী। ১৯৫৭ সালের ২৮ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয় করা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা আহমদ হোসেন চৌধুরী ও মা বেগম তাহেরা হোসেনের ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

কামাল চৌধুরীর প্রথম বই ‘টানাপোড়েনের দিন’, শেষ বই ‘স্তব্ধতা যারা শিখে গেছে’। ২০১২ সালে বাংলা কবিতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে কবিতা, সমাজ রাষ্ট্র- এসব বিষয়ে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

আপনার প্রথম বই ‘মিছিলের সমান বয়সী’। ৭৫ সালে একজন কবি হিসেবে বিধ্বস্ত রাষ্ট্র যতটা দেখছেন, উপলব্ধি করেছেন- তার কতটা লিখতে পেরেছেন?

কামাল চৌধুরী: মিছিলের সমান বয়সী আমার প্রথম কবিতার বই। এটি একটি প্রতীকী নাম। প্রতীকী এই অর্থে যে আসলে মানুষের যে যাত্রা তা একটা দীর্ঘ মিছিল। মানব সমাজের ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখব একটা দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে অভিযোজন করেই কিন্তু আজকে এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। এটা একটা চলমান যাত্রা।

নানা বাঁধা, প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা আছে তবু থেমে থাকে না যাত্রা। এই যে মানুষের অগ্রযাত্রা, এই অগ্রযাত্রাকে আমি আসলে আমার কবিতার উপজীব্য করতে চেয়েছি। কিন্তু, এ বইয়ের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এমন একটা সময় লিখেছি তখন বাংলাদেশে প্রতিকূল পরিস্থিতি ছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের পর বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে রাখা হয়েছিল। যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কবিরা বিবেকের (পর্যদস্তু) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল কবিতায়।

কবিতায় বলেছেন ‘আমাকে জন্ম দাও, ভিন্ন কোন ভাবে’ কাকে বলেছেন, ঈশ্বরকে নাকি কবিতাকে?

কামাল চৌধুরী: এটা আমার একটা কবিতার লাইন। মানুষের জীবন তো একটাই। এই জীবনে মানুষ নানাভাবে বেঁচে থাকতে চায়। পৃথিবীতে আমরা যে এসেছি আমাদেরও তো কিছু করণীয় আছে। আমাদের বেঁচে থাকাটা যদি সৃজনশীলতা, মননশীলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়- আমরা যদি নতুন কিছু করতে না পারি- তাহলে জীবন সার্থক হবে না। বিষয়টা চিন্তা করেই আমি ভিন্নভাবে জন্ম নেওয়ার কথা বলেছি। এক জীবনে বহু জন্মের স্বপ্ন দেখতে হয় এবং এই দেখাটাই হচ্ছে মননশীলতা।

অনেক কবিই বলেছেন কবিতা শুধু কল্পনা কিন্তু আপনার কবিতায় কল্পনা ও জীবন দুটিই উঠে এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে কবিতাকে কীভাবে দেখেন?

কামাল চৌধুরী: না, কবিতাটা জীবনের বাইরে নয়। কবিতা অবশ্যই কল্পনা। কল্পনা শক্তির বহিঃপ্রকাশ না ঘটলে কবিতা হবে না। জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে কল্পনাশক্তি তৈরি হয়। কারো কারো মতে কবি যখন কবিতায় থাকেন তখন তিনি জীবনে থাকেন না। আমি এটা বিশ্বাস করি না। জীবনানন্দ দাশের একটা উক্তি আছে, ‘কবিতা এবং জীবন একই জিনিসের দু’রকম উচ্চারণ’।

কল্পনাশক্তি ছড়া-কবিতা হয় না। আর কল্পনা শক্তির সঙ্গে জীবনকে মিলাতে হয়।

আপনার জীবনে কবিতা আগে এসেছে নাকি প্রেম?

কামাল চৌধুরী: প্রেম হচ্ছে লৌকিক ও অলৌকিক দুটি বিষয়। কবিতার সঙ্গে অবশ্য প্রেমের একটা সম্পর্ক আছে। মানুষের ভেতর যে কবিতা তৈরি হয় সেই কবিতাটা কিন্তু বহুদিনে একটা রসায়নের মধ্য দিয়ে তৈরি। হঠাৎ করে কবিতা তৈরি হয় না। একজন মানুষ অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কবি হয়ে ওঠে।

মানুষ নারীর প্রেমে আপ্লুত হতে পারে, আবার স্বদেশ প্রেমেও আপ্লুত হতে পারে। প্রেমটা হচ্ছে আপেক্ষিক এবং ব্যাখ্যাতীত একটা বিষয়। আমি কবিতা লেখা শুরু করেছি স্কুলজীবনে। সেসময় ভালো লাগা থাকলেও প্রেম এসেছে কলেজ জীবনে।

কোলরিজ বলেছেন উৎকৃষ্ট শব্দ এবং উৎকৃষ্ট বয়ান হচ্ছে কবিতা। আপনি বিষয়টা কীভাবে দেখেন?

কামাল চৌধুরী: এটা বহু আগের কথা। কবিতা বদলেছে, বদলেছে কবিতার বয়ান। তবে কবিতা যদি উৎকৃষ্ট বয়ান হয় তাহলে কিন্তু দেখা যাবে কবিতা যে দৃশ্য বিষয় তৈরি করতে চায় তা সাদামাটা হয়ে যাবে। যে কোনো কবি শুধু শব্দ নয়, শুধু বয়ান নয়, শুধু কল্পনা শক্তি নয় কিংবা শুধু দৃশ্য রচনা নয়। আমি মনে করি সব কিছুর সমন্বয়ে কবি কবিতাকে জীবন্ত করে তোলে।

আপনার দুটি লাইন ‘মুজিব লোকান্তরে/মুজিব বাংলার ঘরে ঘরে’ বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর দেয়ালে দেয়ালে ছেয়ে যায়। দুটি লাইনকে কী স্লোগান বলবেন না কবিতা?

কামাল চৌধুরী: কবিতার অনেক ভূমিকা আছে। কবিতাকে কখনো কখনো বিবেকের কণ্ঠস্বর হয়ে আবির্ভূত হতে হয়। কবি এই সমাজেরই অংশ। সমাজে যদি কোনো কূপমণ্ডূকতা থাকে, কোনো প্রতিক্রিয়াশীলতার উত্থান হয়, তখন কবিকে বিবেকের কণ্ঠস্বর হয়ে আবির্ভূত হতে হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে আমরা যখন লিখেছি, তখন সেই সময়টাকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি সঞ্চয় করতে আমরা চেয়েছি আমাদের লেখা হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করতে।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে কবিরা দাঁড়িয়েছে আমি যা লিখেছি তা স্লোগান হিসেবেই লিখেছি। আর এই ‘মুজিব লোকান্তরে/মুজিব বাংলার ঘরে ঘরে’ স্লোগানটি ১৯৭৭ সালের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময়কে আঘাত করতে ঘাতকের বিরুদ্ধে স্লোগান।

আপনি বলছেন কবিতা বিবেকের কণ্ঠস্বর। তাহলে এখন যে কূপমণ্ডূকতা চলছে- সামাজিক সংঘাত, সামাজিক সংকট, ধর্মান্ধতা চলছে এর বিরুদ্ধে বর্তমান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার মতো কবি আপনি কাউকে দেখতে পাচ্ছেন?

কামাল চৌধুরী: পৃথিবীতে সবসময় কবিরা সময়, সমাজ, জাতিসত্তাকে প্রতিফলিত করেই লিখেছেন। সমাজের কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে কবিরা চিরকাল লড়াই করেছেন। অবশ্যই বর্তমানেও অনেকে আছেন। আমি এই মুহূর্তে তাদের নাম বলছি না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কবিরা রচনা করেছেন তাদের কালজয়ী রচনা। সারা পৃথিবীতে আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক কবি আত্মাহুতিও দিয়েছেন।

বেদনা থেকে শিল্পের সৃষ্টি। এখনকার কবিরা কী বেদনা বহন করেন, আপনি কি বলেন?

কামাল চৌধুরী: কিছু কিছু ঘটনা থাকে যেটা মানুষকে গভীরভাবে রেখাপাত করতে পারে। যেমন আমার পিতাকে হারিয়ে আমি লিখেছি। আমার ছোটো ভাইকে হারিয়ে লিখেছি। ‘আমার স্তব্ধতা যারা শিখে গেছে’ এই বইয়ে একটি গভীর বেদনার ভর্তি গুচ্ছরিত অনেকগুলো কবিতা আছে। আমি বইটি আমার ছোটো ভাইকে উৎসর্গ করেছিলাম। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শোক এবং প্রতিবাদে লিখেছি। কবিরা বেদনা বহন করে।

আপনি যখন বলেন যে টানাপড়েনের দিন সেটা কী ব্যক্তিগত টানাপড়েন নাকি সাহিত্য সমাজের টানাপোড়েন?

কামাল চৌধুরী: আসলে দুটোই। টানাপোড়েনের অর্থ হচ্ছে বুনন। যেমন তাঁতের যে মাকু আসা-যাওয়া করে এবং সুতোটা ওইভাবে হয়। একটা শাড়ি বা কাপড়ও তৈরি হয় এই প্রক্রিয়ায়। আর এই প্রক্রিয়াটাই হচ্ছে টানাপোড়ন। একজন কবি কিন্তু সবসময় এরকম একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়। আমরা একটা শব্দ ছুঁড়ে দেই, আবার শব্দটা সামনে নিয়ে আসি।

আর আমার ক্ষেত্রে সেই সময়টা আমার জীবনের একটা বিশেষ সময় ছিল। আমি অনেকটাই‌ পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলাম। যে কারণে স্বাভাবিকভাবে আমার নিজের অবস্থান ঠিক রাখা কঠিন ছিল এবং সেই সময়টাকে অনুকূলে আনতে যে কাজটা করতে হয়েছিল তার ছাপ আমার কবিতায় আছে। পাশাপাশি আমাদের সামাজিক অবক্ষয় রাজনৈতিক দিকও আছে। সব মিলিয়ে একজন কবি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছে- তার স্বপ্ন থেকে জীবন, বাস্তবতা থেকে সামাজিক জীবন। ওটাই হচ্ছে টানাপোড়েনের দিনের মূল প্রতিবিম্ব।

কবিতাই সাহিত্যের উৎকৃষ্ট মাধ্যম, তবুও কবিদের ব্যঙ্গ করা হয় ‘কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশি’। কবিদের সামাজিক মর্যাদাকে হেয় প্রতিপন্ন করে দেখার কারণ কী?

কামাল চৌধুরী: সমাজ এমনই। আপনি যদি ব্যর্থ হন তাহলে সেখানে আপনার ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করা হবে; তার জন্য আপনাকে দায়ী করা হবে। আর যদি আপনি সফল হন তাহলেও আপনার সফলতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এটা আসলে মানুষের জীবনের বৈপরীত্যের অংশ। আমি তো দেখি পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সেলেব্রিটি হচ্ছে কবিরা।

আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কমিটিকে প্রভাবিত করে নবম-দশম শ্রেণীতে ‘সাহসী জননী বাংলা’ শিরোনামে একটা কবিতা পাঠ্য করেছেন। এর ব্যাখ্যা আপনি কীভাবে দেবেন?

কামাল চৌধুরী: আমি এর ব্যাখ্যা দিতে চাই না। এটা নিয়ে কেউ কেউ কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমি শুধু বলব, ওখানে অনেকগুলো কবিতা আছে সেগুলো পাশাপাশি রেখে যদি কেউ বলেন- আমার কবিতাটি ওদের চাইতে খারাপ তাহলে আমি হয়তো মেনে নেব। কমিটি বলেছে, তারা অনেক যাচাই করে আমার কবিতাটি দিয়েছে। সেখানে আমার বন্ধু রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতাও আছে এবং সমকালের অনেকেরই কবিতা আছে।

আমি যেহেতু সেই সময় একটা পজিশনে ছিলাম স্বাভাবিকভাবেই কারও কারও মনে হতেই পারে। কিন্তু, আমি এই বিষয়টা এমনভাবে নিতে চাই না। আর আমি কমিটিকে প্রভাবিত করিনি।

আপনার কবিতা ‘এই দেশে আমি আছি রক্তভেজা এ জনপদে’। কবের লেখা এটা, আর রক্তভেজা জনপথ কতদিন চলবে?

কামাল চৌধুরী: সারা পৃথিবীটাই রক্তস্রোত অতিক্রম করছে। আমরা যে মানচিত্রটা পেয়েছি সেটা একটা রক্তাক্ত মানচিত্র। আমরা সেটা অর্জনের পরেও রক্তাপ্লুত হয়েছি। সেজন্যই আমি বলেছি ‘এই দেশে আমি আছি রক্তভেজা এই জনপদে’। কবিতাটি ১৯৭৭ সালে ২০ বছর বয়সে লেখা কবিতা। অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা একটি কবিতা। এখনো অনেকেই আমার সামনে এলেই কবিতাটি আবৃত্তি করে। আমি মনে করি এই কবিতাটি আমার জীবনের লেখা উল্লেখযোগ্য একটি কবিতা।

হিটলার কবিদের বাদ দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বাংলাদেশের কবি হয়ে সরকারের খুব কাছাকাছি আপনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন। এটা কীভাবে দেখেন?

কামাল চৌধুরী: আমি কবিতা লিখি। কিন্তু, পাশাপাশি আমি সরকারি চাকরিও করেছি। একজন মানুষ আসলে কোনো কাজ করলে তার সে কাজের সক্ষমতা আছে কিনা সেটা বিবেচ্য বিষয়। একসময় আমি মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কিংবা আজকে মুজিব বর্ষের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমার উপরে আস্থা রেখে যে দায়িত্বটা দিয়েছেন আমি মনে করি এটা অনেক বড় দায়িত্ব। ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এসময় বঙ্গবন্ধুর মুজিববর্ষের সব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। এটা নিয়ে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষণ করি যে, তিনি আমায় দায়িত্ব দিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী মুজিবকে ছড়িয়ে দিতে মুজিব শতবর্ষে আপনারা যে পরিকল্পনা করেছেন তা কতটা পেরেছেন? ব্যর্থতা ছিল কোনো?

কামাল চৌধুরী: আমি মনে করি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সম্মিলিত চেষ্টায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা আমাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে, আমরা অনেক বড় কাজ করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। অনেকটা সফলও হয়েছি আমরা।

বাংলাদেশে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে। কিন্তু, আমাদের যেসব প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেখানে উচ্চশিক্ষার মান নিচের দিকে যাচ্ছে। তাহলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কেন?

কামাল চৌধুরী: আমি মনে করি শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু অর্জন আছে। আমাদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিন্তু অনেকগুলো প্রজেক্ট কাজ করছে। কোয়ালিটি একটা বড় বিষয়। এটা শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নয় প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন আছে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে যেখানে কথা হচ্ছে সেখানে আমার একটা সাজেশন আছে। সাজেশন হচ্ছে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেমন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে তাদের দরকার কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স একটা মেকানিজম তৈরি করা। যেমন UK তে বলে QAA মানে Quality Assurance Agency। তারা প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ালিটি নিশ্চিত করে। আমি মনে করি এটা করা খুব জরুরি।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনকে দ্বিমুখী সংঘর্ষ ঘটতে দেখা যায় এটা আসলে রাষ্ট্র এবং সমাজকে কী বার্তা দেয়?

কামাল চৌধুরী: এক্ষেত্রে ব্যক্তির আচরণকে অনেক ক্ষেত্রে সামষ্টিক আচরণ হিসেবে দেখা যায়। তা ঠিক না। পৃথিবীতে বিভিন্ন গোত্র, গোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের মতানৈক্য সব সময় ঘটে। যেমন আমাদের অনেকগুলো ক্যাডার সেল আছে। সেই ক্যাডারদের মধ্যেও কিন্তু মতানৈক্য থাকে। স্বাভাবিকভাবে একটা সমাজে অনেকগুলো গোষ্ঠী থাকে তাদের মধ্যে একটা মিথস্ক্রিয়ার ফলেই তো সোসাইটি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো আচরণ হয়তো কাঙ্ক্ষিত না। কিন্তু, এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকে সামষ্টিক আচরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

জন্মদিন মানে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। জন্মদিনে মৃত্যুর উপলব্ধি হয়?

কামাল চৌধুরী: আমি আসলে যমজ। আমার জন্মদিন আমার জমজ ভাইয়ের মৃত্যু দিন। অর্থাৎ আমার যমজ ভাই পৃথিবীর আলো দেখেনি। আমি সবসময় আমার জন্মদিনে আমার যমজ ভাইয়ের কথা স্মরণ করি যাকে আমি নিজেও দেখিনি। আমার কেন জানি মনে হয় আমরা দু’জনেই মাতৃগর্ভে ছিলাম। এমনও তো হতে পারতো সে বেঁচে থাকত আমি মৃত্যুবরণ করতে পারতাম।

মনে মনে বলি সে যদি বেঁচে থাকত তাহলে কী‌ সে কবি হত?

কামাল চৌধুরী: আমার ধারণা তার কবিতাটা আমি লিখছি। আমি এখনো মনে করি আমি যে কবিতাটা লিখছি সেটি আসলে আমি একা লিখছি না। আমি এবং আমার যমজ ভাই আমরা দু’জনে মিলে লিখছি। আমার জন্মদিনে আমি যমজ ভাইকে গভীরভাবে স্মরণ করি। আমার কবিতা আমাদের দু’জনের কবিতা।

সর্বশেষ নিউজ