২০, এপ্রিল, ২০২১, মঙ্গলবার

প্রজ্ঞাপন জারি, সর্বাত্মক লকডাউন বলবৎ থাকবে

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক বিশেষ ফ্লাইট চলাচল, ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ পূর্বের সকল বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১২ এপ্রিল করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যে বিধিনিষেধ (১৩ দফা) আরোপ করা হয়েছে, সেটি এখানেও বহাল থাকবে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৭ দিনের লকডাউন ১১ এপ্রিল শেষ হলেও ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু আগে মাঝের দুদিন ১২ ও ১৩ এপ্রিলও বিধিনিষেধ বলতৎ রাখা হয়।

এরপর কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশে গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সারা দেশ ১৪-২১ এপ্রিল সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে ১৩টি বিধিনিষেধ আরোপ করে।

আগামীকাল বুধবার (২১ এপ্রিল) ৮ দিনের সেই সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই গত রবিবার (১৮ এপ্রিল) লকডাউন বাড়ানোর জন্য আবারও সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ভার্চুয়ালি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এ বৈঠকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গেল বছর ২৩ মার্চ প্রথমবার ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন ‘ছুটি’ ঘোষণা করা হলেও পরে দফায় দফায় সেই মেয়াদ মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেসময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ছুটির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকায় সেই পরিস্থিতি ‘লকডাউন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। গেল বছর টানা ৬৬ দিন চলে সেই সাধারণ ছুটি।

কিন্তু টানা সাধারণ ছুটির কারণে নিম্নবিত্তের জীবন-জীবিকা ও দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা অস্তিত্ব সংকটে পড়লে বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে সরকার ৩১ মে’র পর থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করতে থাকে। বছরের শেষে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আর সবকিছুতেই কড়াকড়ি উঠে যায়।

চলতি বছরের শুরুতে করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমে এলেও মার্চ মাসের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে আবারও বাড়তে থাকে। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আর এপ্রিলের গত ১৯ দিনে প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যু দ্রুত বেড়েই চলেছে।

দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

সর্বশেষ নিউজ