৭, ডিসেম্বর, ২০২১, মঙ্গলবার

প্রতি জেলায় মডেল মন্দির নির্মাণের দাবি হিন্দু মহাজোটের

জনসংখ্যা অনুপাতে বাজেটে বরাদ্দের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের বৈষম্য নিরসনে পর্যাপ্ত থোক বরাদ্দ ও প্রতি জেলায় ১টি করে মডেল মন্দির নির্মাণের দাবিও জানান তারা।

শুক্রবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি চরম বৈষম্য করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই বৈষম্যমূলক বাজেট আমরা মানি না। এ বরাদ্দ আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপমানের।

তারা আরও বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের ২শ’ কোটি টাকা ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে থোক বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের আওতায় আংশিক কিছু প্রকল্প কার্যক্রম সারাদেশে বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্থ বছরে বাজেটে নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে, বৈষম্য-বঞ্চনার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বাজেটে ধারাবাহিকভাবে কোনরূপ প্রতিফলন লক্ষ করা যাচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সমঅধিকার বাস্তবায়ন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই বাজেটের মধ্যে অনুপস্থিত।

এবারের বাজেটে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য যে বরাদ্দ তা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এই বাজেটের তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা করছি এবং তা পুনর্বিবেচনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা যে বার বার বলেছি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার এই বাজেট দেখলে তা বোঝা যায়। এই বাজেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প খাতে বিশেষ বরাদ্দ থাকলেও হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উন্নয়নে কোনও বরাদ্দ নেই। এই বাজেট দেখলে মনে হয় দেশে কোনও হিন্দু নেই। এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের অপমান করা হয়েছে।

হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি প্রভাস মণ্ডল, নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, যুগ্ম সম্পাদক অখিল প্রমুখ।

সর্বশেষ নিউজ