২০, মে, ২০২২, শুক্রবার

প্রতীক বরাদ্দের আগেই নৌকা প্রতীকের পোষ্টার

এসএম বাচ্চু,তালা: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে ভোট করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পেয়েছেন নৌকা।এ ঘটনায় তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশ,সর্ব শেষ তালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। অপরদিকে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে নির্বাচন করে ফজলু রহমান আনারস প্রতিক নিয়ে। এই নির্বাচনে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুর পক্ষ নেন এবং তার পক্ষে ভোট করেন। যা নিয়ে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় নেতারা জানান, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতিক নৌকা পান। সেই ভোটে লিটু ৫৬৩৮,মুক্তি ৪৪৮২,গপ্ফার ৪২৯৮ পান। এর আগে ১ম বার জাহাজ প্রতিক নিয়ে ১৬৬৪ পেয়ে তৃতীয় হন মুক্তি,৫৫৩৬ ভোট পান লিটু, গফফার পান ৫০৩৬। জনবিচ্ছন্ন এই মুক্তি কে আবারো দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কারেন বিএনপি সমার্থিত প্রার্থী লিটু আবারো বিজয়ী হবেন। অনেক নেতাদের প্রশ্ন একটাই টাকার বিনিময় মুক্তি আবারো প্রতিক নিয়ে এসেছে।

দলীয় ভাবে তাকে প্রতিক নিশ্চিত হওয়ায় নির্বাচন আচারণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নৌকা প্রতীকের পোষ্টার ও প্যানা ছাপিয়ে বিভিন্ন জায়গার লাগানো হয়েছে। সাথে নৌকা তৈরী করে বিভিন্ন গাছে গাছে ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। সোমবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তকাটি নতুন বাজর, গৌতমকাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাতপাকিয়া, আটুলিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় এ পোষ্টার ও প্যানা দেখা যায়।
এঘটনায় জালালপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান এম.মফিদুল হক লিটু রিটনিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছে। স্থানীয়রা জানান, পোষ্টার মারাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া কয়েকটি গ্রুপ করে হাতুর বাহিনীও গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি নতুর বাজারে আওয়ামীলীগের প্রাথী রবিউল ইসলাম মুক্তির উৎশৃঙ্খল কমীরা স্বতন্ত্র প্রাথী মফিদুল হক লিটুর কমীদের উপর মামলা ও হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এছাড়া গত দুই মাস আগে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি ও তার ভাই মশা ও সাদেকের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি হাতুরি বাহিনী হঠাৎ স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আশারাফুল হক গোলদার, তার ছেলে ও ভাইপো সহ ৭/৮ জনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভতি করে। এ ব্যাপারে জালালপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রাথী রবিউল ইসলাম মুক্তি সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি।

তালা উপজেলা নির্বাচন অফিসার রাহুল রায় আরও জানান, বিষয়টি মৌখিক ভাবে শুনেছি। দ্রুত নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না নামালে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তালায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেউ সংঘাত সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কঠোরহস্তে দমন করা হবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

নাম প্রকাশ না করার সত্বে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা বলেন,নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করা একজনকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তি কিভাবে নৌকা প্রতিক পেলো সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মনে করছি আবারো এই ইউনিয়নটিতে আওয়ামীলীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান করতে ব্যার্থ হবো।

সর্বশেষ নিউজ