১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই একশন

ঘটনাটি ঘটেছিল ৯ জুন বুধবার। ঢাকা বোট ক্লাবে রাতে পরীমণি গিয়েছিলেন। সেখানে কি হয়েছিল তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। তবে এখন পুলিশ বলছে পরীমণি অসুস্থ হয়েছিলেন, পুলিশ তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিল এবং পরীমণি দাবি করেছেন যে, তিনি বিভিন্ন মহলের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে আবেদন করেছিলেন কিন্তু তার আবেদন কেউই গ্রহণ করেনি। তার দাবি অনুযায়ী তিন দিন ধরে তিনি এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করেছেন। কিন্তু কেউই তার অভিযোগ শোনে নি বা অভিযোগ আমলে নেন নি। আর এর পরই পরীমণি ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেগঘন আবেদন করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মা দাবি করেন এবং পরীমণি বলেন যে, আড়াই বছর বয়সে তিনি তার মাকে হারিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হল তার মা। শুধু এটি করেই পরীমণি ক্ষান্ত হননি। গতকাল রাতেই তার ফেইসবুকের ওই স্ট্যাটাস দেখে গণমাধ্যম কর্মীরা তার বাড়িতে গেলে তিনি তাদের কাছে মুখ খোলেন এবং যারা তাকে হেনস্তা করেছে তাদের নাম প্রকাশও করেন।

এরপর পরই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারটি জানার পরপরই এ ব্যাপারে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তা হলো আইন সবার জন্য সমান। কেউ অপরাধ করলে তার দল, মত এবং পদ-পদবি দেখা হবে না। অপরাধী অপরাধীই। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বিভিন্ন সময়ে হয়তো অনুশৃত হয় না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নজরে যদি এ ধরনের কোনো বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এর সুরাহা করার জন্য এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেন। পরীমণির ঘটনায় সেটি আরেকবার প্রমাণিত হলো।

একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী রাতেই ঘটনাটি জেনেছেন এবং তিনি সংশ্লিষ্টদেরকে এই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। তার পরপরই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। পরীমণি প্রথমে একটি অভিযোগ করেন। পরে যেহেতু ঘটনাস্থলটির অবস্থান সাভার থানায়, সেহেতু সাভার থানায় তাকে অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সাভার থানায় পরীমণি মামলা করেন এবং এ মামলার সল্প সময়ের মধ্যেই নাসির উদ্দিনসহ আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং কোন অপরাধেই যে তিনি বিচারহীনতার মধ্যে রাখতে চান না এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণিত হলো। বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে যে, এই বিষয়টি যদি প্রধানমন্ত্রীর নজরে না আনা হতো, প্রধানমন্ত্রী যদি এ বিষয়ে নির্দেশনা না দিতেন তাহলে কি বিচার পেত?

পরীমণি আজকে একজন পরিচিত মুখ, সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে তিনি মিডিয়ার আনুকূল্যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাতে পেয়েছেন। কিন্তু তার আগে কেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই বিষয় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করল না। অবশ্য এ ব্যাপারে গুলশান থানার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, পরীমণি কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা নিয়ে তাদের কাছে আসেন নি। তাছাড়া আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অভিযোগ ছাড়া মামলা গ্রহণের এখতিয়ার পুলিশের নেই বলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মনে করছে।

কেউ কেউ মনে করছেন যে, পরীমণি এই মামলা করতে বিলম্ব করেছেন। কারণ তিনি আসলে এটির চাপ সামাল দিতে পারবেন কিনা সেটি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। এটি নিয়ে তিনি দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলেন। আবার অনেকে মনে করছেন যে, তিনি অভিযোগটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আসলে তার অভিযোগগুলো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হচ্ছিল না। যেটিই ঘটুক না কেন এটি আরেকবার প্রমাণিত হলো প্রধানমন্ত্রী যখন কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন তখন সেই বিষয়টি জনগণের পক্ষে এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে দ্রুত সমাধান হয়। পরীমণির ঘটনা তার আরেকটি প্রমাণ।

সর্বশেষ নিউজ