৫, জুলাই, ২০২২, মঙ্গলবার

প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি তিনটহরী ইউনিয়নের ১৫২পরিবার

জসিম উদ্দিন জয়নাল,খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে মুজিববর্ষে হতদরিদ্র দুস্হ প্রতিবন্ধী, স্বামীহারা বিধবা নারীসহ ভূমিহীন ১৫২ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের ঠিকানা।

খাগড়াছড়ি জেলাপ্রশাসনের সার্বিক তদারকিতে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়নে হতদরিদ্র দুস্হ প্রতিবন্ধী, স্বামীহারা বিধবা নারীসহ ভূমিহীন ১৫২ পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছ।

মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় হতদরিদ্র দুস্হ প্রতিবন্ধী বিধবা নারীসহ অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পৌঁছে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,তিনটহরী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির তত্বাবধানে ঘরগুলো অত্যন্ত মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উপকারভোগী তিনটহরী ইউনিয়নের নামার পাড়া এলাকার বিধবা রছিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই আমি মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা করে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়। আমার সংসারে উপার্জন করার মত কেউ নেই। এসময় অশ্রুসিক্ত নয়নে সরকারি ঘর পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

উপকারভোগী নিতটহরী ইউনিয়নের হতদরিদ্র কৃষক মৃধল কান্তি নাথ অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করে জানান , ‘আমি সারাজীবনের চেষ্টায়ও যে মাথা গোজার ঠাঁই করতে পারিনি। মানুষের জমিতে কাজ করে খাই। তিনটহরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো:আবুল কালাম আজাদ’র সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পেয়ে আমার জীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’ স্বপ্নের সেই বসত ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি হতদরিদ্র কৃষক মৃধল কান্তি নাথ ।

তিনটহরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো:আবুল কালাম আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ১৫২টি ঘর বরাদ্ধ পেয়েছি।তার মধ্যে ১০০টি ঘর শতভাগ কাজ হয়েছে। ৫২টি ঘরে কাজ চলমান এই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। ১৫২ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। তিনটহরী ইউনিয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের চাবি গৃহহীনদের মাঝে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে

আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘর আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক,গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিনটহরী ইউনিয়নের ঘর গুলো পরিদর্শন করেছেন। তারা সকলেই ঘরগুলোর গুণগত মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

মানিকছড়ি উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো:কামাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলি সচ্চভাবে করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ করেছেন। তদারকি কর্মকর্তাদের যাচাই -বাচাই করার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৃত ঘর পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের চুড়ান্ত তালিকা করে হতদরিদ্র,দুস্হ, প্রতিবন্ধি, বিধবাদের অগ্রধিকার ভিওিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে মানিকছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন ধাপে ৬০০টি ঘর বরাদ্ধ পেয়েছি।গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৫টি দূর্যোগ ও এাণ মন্ত্রনালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রথম ১৫৩টি,দূর্যোগ ও এাণ মন্ত্রনালয়ের দ্বিতীয় ধাপে ১৪০টি প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প- ২অধীনে ২৭২টি মোট ৬০০টি ঘর গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ঘরে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে বর্তমানে মানুষ বসবাস শুরু করেছে।তিনটহরী ইউনিয়নে ১৫২টি ঘর সচ্চভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।যারা গৃহহীন ও ভূমিহীন রয়েছে তাদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরো ঘর বরাদ্দ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান, তাই আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান,মানিকছড়ি উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো:কামাল

মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো:জয়নাল আবেদীন বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে মুজিববর্ষে হতদরিদ্র দুস্হ প্রতিবন্ধী, স্বামীহারা বিধবা ভূমিহীন ৬০০টি পরিবারের মাঝে ঘর দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন,
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষরা কোথায় থাকতো, কিভাবে দিন কাটাতো তাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটির ফল আজ ভোগ করছেন পাহাড়ের গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার।

সর্বশেষ নিউজ