১৩, জুন, ২০২১, রোববার

প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে গণধর্ষণের শিকার আদিবাসী কিশোরী, গ্রেফতার-৩

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদঃ প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী সখিনা হাসদা (১৭) নামের এক আদিবাসী কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে,৩০ জানুয়ারি শনিবার গভীর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার খোদাদাতপুর বাওপুকুর গ্রামে। সখিনা হাসদা উপজেলার খোদাদাতপুর বাওপুকুর গ্রামের মৃত চরকা হাসদার মেয়ে।

রবিবার গভীর রাতে কিশোরীকে প্রেমিক সহ ৩ জন মিলে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। গভীর রাতে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে গণধর্ষনের শিকার হয় এই আদিবাসী কিশোরী। ধর্ষিতা সখিনা হাসদার মা রাণী সরেন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে এ ঘটনায় পুলিশ ৩ ধর্ষককে গ্রেফতার কওে সোমবার তারেদও জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতারকৃত ধর্ষকরা উপজেলার ঘুঘুরা ভোতরাপাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার পুত্র মোঃ লাবু (২৮), আহম্মদ আলীর পুত্র মোঃ আশরাফুল ইসলাম(৩৫) ও খোদাদাতপুর বাওপুকুর গ্রামের মোঃ বেলাল হোসেনের পুত্র মোঃ ওমর ফারুক(২১)।ধর্ষিতার মায়ের করা ঘোড়াঘাট থানার এজাহার সুত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন আগে থেকে তার মেয়ের সাথে লাবু গ্রেফতারকৃত লাবুর পরিচয় হয় এবং তার সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কথা বলতে থাকে।

ঘটনার রাত আনুমানিক দেড়টায় আসামী লাব তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে সখিনা হাসদার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে বাড়ির পাশে জৈনিক আঃ রহিমের লেচু বাগানে ডেকে আনে। সখিনা হাসদা বাড়ির কাউকে না জানিয়ে সরল বিশ্বাসে একাকি লিচু বাগানে যায়।দেখা করে বাড়িতে ফিরে আসার সম,য় উপরোক্ত আসামিরা মিলে জোর পূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে। ভোর ৫ টায় সখিনা হাসদাকে অসুস্থ অবস্থায় বাগানে ফেলে রেখে চলে যায় ।সখিনাকে উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট থানায় ওই ৩ ধর্ষকের বিরুদ্ধে সখিনার মা মামলা দায়ের করে।ঘেঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন বলেন,৩১ জানুয়ারী রবিবার সন্ধ্যায় ধর্ষিতার মা ধর্ষিতাকে নিয়ে থানায় এসে মামলা দায়ের করলে, তাৎক্ষণিক পৃথক পৃথক স্থান থেকে আমরা ওই তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের গণ ধর্ষনের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।

আসামীদেরকে ১ ফেব্রুয়ারী সোমবার দিনাজপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি আমি নিজেই তদন্ত করছি।এই ঘটনার বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা ও এই তিন আসামীর কোন সম্পর্ক আছে কিনা! তা আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি।তিনি আরও জানান,ধর্ষিতাকে পরীক্ষা করানোর জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই সাথে আমরা অধিকতর তদন্তের জন্য উভয়ের ডিএন এ টেষ্ট করানো হবে।

সর্বশেষ নিউজ