১৪, জুন, ২০২১, সোমবার

ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ইহুদী রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে করণীয়-পর্ব-১

ফিলিস্তিন অঞ্চলটি মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাংশে ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মাঝে অবস্থিত পৃথিবীর অতি প্রাচীন অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে মানুষের বসবাস কৃষিনির্ভর জনসমষ্টি এবং সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। ব্রোঞ্চ যুগের প্রথম ও মধ্যভাগে স্বাধীন কেনানীয় নগররাষ্ট্রগুলো গড়ে উঠেছিলো প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া, ফোয়েনেশিয়া, মাইনোয়ানক্রিট এবং সিরিয়ায় গড়ে উঠা সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। ইহুদীধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্মের উৎপত্তি স্থান বলেও ফিলিস্তিনের পরিচিতি রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে ও দুটি প্রাচীন ধর্মের সুতিকাগার হওয়ার সুবাদেই ফিলিস্তিন ভূখন্ডের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, বানিজ্যিক ও রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক ইতিহাস রয়েছে।
প্রাচীনকাল হতে ফিলিস্তিনের এই ভূখন্ডটি বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষদের দ্বারা পরিচালিত ও শাসিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তন্মধ্যে কেনানীয়, আমরীয়, প্রাচীন মিশরীয়, ইসরায়েল বংশের ইহুদী, ব্যাবিলনীয়, পারস্য, প্রাচীন গ্রিক, রোমান, বাইজেন্টাইন, প্রাথমিক যুগের মুসলিম খিলাফাতের উমাইয়াদ, আব্বাসীয়, সেলজুক, ফাতমি, খ্রিস্টান ক্রুসেডার বা ধর্মযোদ্ধাগণ এবং শেষের দিকে মুসলিম খিলাফাতের আইয়ুবী, মামলুক ও উসমানীয় প্রভৃতি সাম্রাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
আধুনিক প্রত্নতত্ত্ব ১২টি প্রাচীন মিশরীয় এবং আসিরিয়ান শিলালিপি শনাক্ত করেছে যেগুলোতে হিব্রু প্লেশেথের সম্পর্কে বিবরণ রয়েছে। পেলেসেট শব্দটি পি-আর-এস-টি হিসাবে হায়ারোগ্লিফিক হতে অনুদিত ৫ টি শিলালিপিতে পাওয়া যায়।
খ্রিস্টপূর্ব ১১৫০ অব্দে মিশরের বিংশতম রাজবংশের রাজত্বকালে মেদিনেট হাবুর মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায় তৃতীয় রামেসেসের শাসনামলে মিশরের সাথে যারা যুদ্ধ করেছিলো তাদের মধ্যে পেলেসেটরাও ছিলো। এই পেলেসেট থেকে প্যালেষ্টাইন নামটি এসেছে। রামেসেসের ৩০০ বছর পরের প্যাডিসেটের মূর্তির লিপিতে প্রাপ্ত ৭টি আসিরিয়ান শিলালিপিতে পালাশুত বা পিলিস্তি নামের অঞ্চলটির উল্লেখ পাওয়া যায় যা শুরু হয়েছিলো খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে। খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দ থেকে তৃতীয় খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মূলত ইহুদীদের যারা নিজেরাই পূর্ববর্তী কেনানীয় সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো।

– চলমান

লেখকঃ শ্যামল কুমার রায়, সাবেক ছাত্রনেতা ও
রাজনীতি বিশ্লেষক

সর্বশেষ নিউজ