৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, শিল্প খাতের সেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বুধবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশের অর্থনীতিবিষয়ক ‘রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্ততায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠিত রাড শোর মূল বিষয় ছিল ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার : পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’।

বিদেশি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সালমানেএফ রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ-সুবিধার কথা বিদেশিরা জানেন না। তবে এ বিষয়গুলো জানাতে সরকার ও বিদেশে মিশনগুলো কাজ করছে। আশা করছি, আগামীতে এটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে মোট ওষুধের ৯৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। শিল্প খাতও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন উদ্যমে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিস্ময়কর অগ্রগতি করেছে দেশটি। বিগত ১২ বছরে বাংলাদেশের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে, যা দেশটিকে একটি নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগের বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, এখন বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট। সেখানে বিনিয়োগ করে লাভ করতে পারছে বলেই ব্যবসা করছে মানুষ। এমনকি ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এসব এলাকায় বিউটি পার্লার ও ব্যায়ামাগারও রয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই বাংলাদেশ অনেক দেশকে টপকে চাল রপ্তানি করছে। শাকসবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। এছাড়া ফিশারি ও দুগ্ধসহ অনেক কিছুই বাংলাদেশে উৎপাদন করা হয়। প্রতি বছর ঈদুল আজহায় প্রতিবেশী ভারত থেকে প্রচুর গবাদিপশু বাংলাদেশে আনা হতো। কিন্তু চলতি বছরের ঈদে কোনো পশু আসেনি; কারণ এখন আমরা অনেক গবাদিপশু উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশনের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, শান্তা এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্ততা করেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন খাতে সফলতার অনেক গল্প রয়েছে। এ সফলতা দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে যাবে। আঞ্চলিক দেশ হিসেবে চীন ও ভারত এগিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করায় সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। অর্থনীতির সবগুলো সূচকে আমরা এগিয়েছি। সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করলে আগামীর বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা বিশাল। আমাদের অর্থনীতিতে যা অর্জন ও সম্ভাবনা রয়েছে, উন্নত দেশগুলার বিনিয়োগকারীদের কাছে তা তুলে ধরা হয়নি। যে কারণে আমাদের সেভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আমরা এ ধরনের ‘রোড শো’র উদ্যোগ নিয়েছি।

বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে শীর্ষ দেশ। আমাদের দেশের পুঁজিবাজার এক বছরের মধ্যে তিন মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে এশিয়ার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আপনারা যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন, তাহলে সেখান থেকে খুব ভালো পরিমাণ মুনাফা করতে পারবেন। বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক দশকে আমাদের ছয় শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা খুবই বিস্ময়কর।

মূল প্রবন্ধে আরিফ খান বলেন, এশীয় অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদেশি সহায়তা ছাড়াই আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের বিদেশি সহায়তার হার ছিল ৯৮ শতাংশ। আর ২০২১ সালে তা মাত্র দুই দশমিক ৯৮ শতাংশ। সবজি উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম অবস্থান আমাদের। ভৌগোলিক দিক থেকেও আমাদের অবস্থান সুবিধাজনক। আমাদের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে এসেছেন। তাদের সবার কথার মূল বিষয় হলো : অর্থনৈতিক উন্নয়নে সিরিয়াস সরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ২০টিরও বেশি বহুজাতিক কোম্পানি বিনিয়োগ করে এখান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কোনো অংশীদারের পাওনা পরিশোধে বাংলাদেশ কখনও ব্যর্থ হয়নি। এসব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। কভিড মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। গত অর্থবছরেও বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ অর্জন এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত সিরিয়াস বাংলাদেশের সরকার।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলো বাংলাদেশ। একই পূর্বাভাস দিয়েছে আরেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ। আর মোট জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিগত সাপোর্ট দিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৬০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা দুই হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কভিড মহামারির মধ্যেও ২০২০ সালে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা তুলে ধরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ১০ দিনের রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে রোড শো শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই লস এঞ্জেলেস এবং ২ আগস্ট সানফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত হবে এ কর্মসূচি।

সর্বশেষ নিউজ