১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

বাড়িতে ২৬টি সিসি ক্যামেরা, ঘরে মিলল ৪ মরদেহ!

পরিবারের চার সদস্যকে খুনের অভিযোগে আসিফ মহম্মদ নামে ১৮ বছরের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। জেরায় একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন আসিফ ও তার বড় ভাই। যা শুনে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও।
পশ্চিমবঙ্গের মালদার কালিয়াচকে একই পরিবারের চার জনের খুনের ঘটনায় উঠে এসছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।

পুলিশের দাবি জেরায় পরিবারের ছোট ছেলে জানিয়েছে, মা-বাবা-সহ পরিবারের অন্যান্যদের খুনের পর দেহ গায়েব করতে কফিন বানিয়েছিল সে। এমনকী সেই কফিনে জীবিত অবস্থায় বাবা-মা-কে ঢুকিয়ে মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দেয় সে।

শুক্রবার রাতে কালিয়াচকের শোলপাই গ্রাম থেকে আসিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এলাকায় বেশ বিত্তবান বলে পরিচিত আসিফের পরিবার। কিন্তু মাস ছয়েক আগে বাড়ি ও লাগোয়া দেড় বিঘা জমি বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত জমি-জায়গা বিক্রি করে দেন আসিফের বাবা। এর পর বাড়ির ভিতরে তৈরি করা হয় একটি গোডাউন। এরই মধ্যে এলাকা ছাড়ে আসিফের বড় ভাই। কলকাতায় চলে যায় সে।

কিন্তু এসব ঘটনাক্রমের কারণ কী তা জানতে পারেননি প্রতিবেশীরা। কারণ এলাকায় কারও সঙ্গে তেমন কথাই বলতেন না পরিবারের সদস্যরা। আসিফ থাকত বাড়ির দোতলায় নিজের ঘরে। সেখান থেকে খুব বেশি বেরতোও না সে। এমনকী ওই ঘরে বাড়ির লোকেদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আসিফের বড় ভাই তাদের জানান। মাস কয়েক আগে বাড়িতে কয়েকটি কফিন বানায় আসিফ। সেই কফিনে বাবা-মা-কে ঢুকিয়ে সেলোটেপ পেঁচিয়ে দেয় সে। সেই দৃশ্য দেখে ফেলেন তিনি। এর পর তাঁকে খুনের হুমকি দেয় আসিফ। ভয়ে পালিয়ে কলকাতা চলে যান আসিফের বড় ভাই।

আসিফের বাড়িতে মোট ২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার হদিশ পেয়েছেন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু এত সিসিটিভি ক্যামেরা কেন? প্রতিবেশীদের আসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল অত্যাধুনিক অ্যাপ তৈরির জন্য এতগুলি সিসিটিভি লাগিয়েছিল সে।

শুক্রবার শোলপাই গ্রামের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয়েছে চার জনের দেহাবশেষ। কী করে তাদের খুন করা হয়েছে জানতে সেগুলি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। সঙ্গে ফরেন্সিক পরীক্ষাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেখা মিলছিল না পরিবারের কারও। সবাই ভেবেছিলেন কর্মসূত্রে অন্যরাজ্যে চলে গিয়েছে পরিবারটি। প্রতিবেশীদের তেমনই জানিয়েছিল আসিফ। কিন্তু দিনকয়েক আগে আসিফের বড় ভাই বাড়ি এসে জানতে পারেন খোজ মিলছে না মা-বাবা-র এর পরই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পুলিশের অনুমান, অনলাইন দুষ্কৃতীচক্রের সঙ্গে যুক্ত আসিফ মহম্মদ। তার মানসিক স্থিতিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

সর্বশেষ নিউজ