৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

‘বিএনপির ক্ষমতায় আসারই ইচ্ছে নেই’

‘বিএনপির ক্ষমতায় আসারই ইচ্ছে নেই। ক্ষমতায় আসতে হলে ইচ্ছে, আগ্রহ থাকতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পরিকল্পনা করতে হবে, যে কী কী জায়গায় পরিবর্তন আনবে। সেগুলো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী-শিক্ষায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি এবং করোনাকালীন শিক্ষা বাজেট: ২০২১-২০২২’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে অ্যাডুকেশন রিফর্ম ইনশিয়েটিভ (ইআরআই)।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গত নির্বাচনে লোজই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খালেদা জিয়ার চেহারা দেখেছেন, মনের মধ্যে একটা ডিপ্রেশনের ভাব। তারা (সরকার) যেভাবে উনাকে জীবিত থেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বিএনপির লোকেরা হয়তো উপলব্ধি করতে পারে না। তার যদি মুক্তি চায়, আমি বারবার বলেছি তারেক রহমান তুমি ২ বছর চুপচাপ বসে থাকো। পার তো বিলেতে (বিদেশ) লেখাপড়ায় যুক্ত হয়ে যাও, সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া হয়। আজকে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব না।

জাফরুল্লাহ বলেন, আজ বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে আল্লাহর ওহি (হুকুমনামা) দিয়ে। ওহি লন্ডন থেকেই বেশী আসে। বাইরে থেকে হুকুমনামা দিয়ে হবে না। এই স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটাতে হলে সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন ঘটাতে হবে বিএনপির নিজের ঘরে। সরকার যেভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বিএনপি হয়তো উপলব্ধি করতে পারছে না।

সভায় করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার প্রসঙ্গও তুলেন তিনি। জাফরুল্লাহ বলেন, শিক্ষাকে এই সরকারের দুইজন মন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। একজন কমিউনিস্ট মন্ত্রী ঢুকেছিলেন আওয়ামী লীগে। এই কমিউনিস্ট মন্ত্রী তার আমলে দিলেন হাজার হাজার জিপিএ-৫। এখন যে শিক্ষামন্ত্রী হয়ে আসলেন ডাক্তার সাহেবা তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। করোনার অজুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ। জাতিকে শিক্ষায় দুর্বল করে দিতে বিদেশি মদদও তো থাকতে পারে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ১৪ মাস ধরে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এইভাবে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে তা পৃথিবীর মানুষ কখনো দেখেনি। এমন একটা পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের চাপ নেই।’ এরা কিসে যে চাপ বোধ করে তা বোঝা যায় না। মনে হয় যদি ঘাড়ের ওপর উঠে বসতে পারেন তখন বলবে চাপ বোধ করছি। মানসিক চাপ, নৈতিক চাপ, এইগুলো তাদের কাছে নাই।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ইআরআই’র সদস্য সচিব মোশাররাফ আহমেদ ঠাকুর ও গণস্বাস্থ্যের মিডিয়া উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, অধ্যাপিক দিলারা চৌধুরী, ড. আবদুল লতিফ মাছুম, ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ ও কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।যুগান্তর

সর্বশেষ নিউজ