৭, ডিসেম্বর, ২০২১, মঙ্গলবার

বিপুল দেশী-বিদেশি অস্ত্র-গুলিসহ ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটির’ শাহীরুল গ্রেফতার

কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ নানা পরিচয়ে প্রতারণার করার অভিযোগে শাহীরুল ইসলাম সিকদার (৪৮) নামের এক শীর্ষ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকা থেকে গতকাল (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব বলছে, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা পুরাতন হলেও মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় প্রদানকারী শাহীরুলের প্রতারনার ইতিহাস নিঃসন্দেহে ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং ভিন্নধর্মী।শাহীরুল একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতারক। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লি. কোম্পানি খুলে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন ও চাকরি প্রদানের নামে প্রতারনা এবং বিত্ত বৈভবের মালিক শাহীরুল ছিল সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

র‌্যাব জানায়, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়ে সম্প্রতি সোলায়মান হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রতারক শাহিরুল ইসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৪ এ অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন তদন্তে ও স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য থেকে র‌্যাব জানতে পারে, অভিযুক্ত শাহিরুল নিজেকে একটি কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড’ নামক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। চাকরি দেওয়ার নামে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন প্রতারক শাহীরুল।গত ২২ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ২৩ অক্টোবর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকায় তার নিজ বাসা ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে শাহীরুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।

র‌্যাব জানায়- অভিযানকালে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১টি শর্টগান, ১টি এয়ারগান, ১টি এয়ার রাইফেল, ২৩৭ রাউন্ড গুলি, ৫টি ম্যাগাজিন, ৫টি খালি খোসা, ২২টি কার্তুজ, ৪টি চাকু, ১টি লোহার স্টিক, ৩টি ডামি পিস্তলসহ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের মাধ্যমে চাকরির আবেদন ফরম, চুক্তিপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ব্যানার, প্যাড, স্ট্যাম্প, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, গোপন ক্যামেরা, পাসপোর্ট, ভিজিটিং কার্ড, আইডি কার্ড, নেইম প্লেট, বিভিন্ন নামিদামি ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, মানি রিসিভ বই, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল জব্ধ করা হয়।

সর্বশেষ নিউজ