২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

বিষ খাওয়া রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ফেঁসে গেলেন চিকিৎসক

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা :

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিষ খাওয়া রোগী নুরজাহানকে (২০) চিকিৎসা দিয়েও বাঁচাতে পারেননি চিকিৎসক। এ ঘটনায় ওই ফার্মেসি মালিকের হাতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

গত সোমবার রাতে উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের স্বাক্ষীপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ওই ইউনিয়নের হাড়িপাড়া গ্রামের মো: মানিক মিয়ার মেয়ে নুরজাহান (২০) এ ঘটনার শিকার হন।

নিহত নুরজাহানের বাবা মানিক মিয়া জানান, প্রায় নয় মাস আগে আমার মেয়েকে স্বাক্ষীপাড়ায় সেলিমের সাথে বিয়ে দেই। সেলিমের আগের বউ চলে গেছে জেনেও তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। সেলিমের চাচাতো বোন লাভলী রাত তিনটার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানায়। পরিবারের লোকজন নিয়ে মেয়ের বাড়িতে ভোরে এসে দেখি সে ঘরে ভিতর পড়ে আছে। এ সময় মেয়ে স্বামী সেলিম কেউ দেখতে পাওয়া যায়নি।

সেলিমের চাচাতো বোন লাভলী বলেন, নুরজাহান বিষ খেলে তাকে সাথে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে সেলিম মিয়া। বাড়ি এলে তার স্ত্রী হঠাৎ বলে ওঠে খারাপ লাগছে, মাথা ঘুরছে, আমাকে বাঁচাও। এরপর সে মাটিতে পরে যায়। প্রথম অবস্থাতেই তাকে সাটুরিয়া হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলে তার স্বামী ও ভাগ্নে ওই ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। রোগীর অবস্থা আশংঙ্কাজনক হলে চিকিৎসক তাকে সাটুরিয়া হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই দিন রাত প্রায় ৯টার দিকে স্বামী মো: সেলিমা মিয়ার সাথে অভিমান করে নুরজাহান বিষপান করে। এ সময় স্বামীর চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন ছুটে আসে। কিছু না বুঝে রাথুরা বাজারে নিয়ে গেলে স্থানীয় চিকিৎসক ফার্মেসীর মালিক রাথুরা গ্রামের আ: আজিজ-এর ছেলে মুক্তার হোসেন (৩০) কয়েক গ্লাস পানি খাইয়ে ওয়াস করে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওই চিকিৎসক সেলাইন নিয়ে নুরজাহানের স্বামীর বাড়ি যায় চিকিৎসা করতে। তার প্রেসার না মেপে তাকে সেলাইন পুশ করে।

সেলাইন দেবার সাথে সাথে রোগীর নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে আসে। এ সময় চিকিৎসক পরিবারের লোকজনকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়। বাড়ি থেকে সাটুরিয়া স্বাস্থকমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যায় ওই নুরজাহান।

এ ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সংবাদ পেয়ে সেলিমের বাড়ি থেকে তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে নাগরপুর থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এ বিষয়ে বুধবার মুক্তা ফার্মেসির মালিক মুক্তার হোসেন জানান, আমার ভুল হয়েছে তাকে চিকিৎসা দেয়া। তবে তাকে সেলাইন পুশ করার আগেই নাক মুখ দিয়ে রক্ত চলে আসায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আনিসুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সর্বশেষ নিউজ