১৯, অক্টোবর, ২০২১, মঙ্গলবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে হেফাজত, পুলিশ ‘নীরব’

মোদীবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে টানা দু’দিন সহিংসতার পর হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও সহিংসতা ছড়াচ্ছে হেফাজত ইসলামের সমর্থকরা।

হেফাজতের ডাকা রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সকাল থেকে লাঠিসোটা হাতে পুরো শহরে মিছিল করছে হরতাল সমর্থকরা।

বেলা ১১টার দিকে মিছিল করে পুরো শহরের বিভিন্ন স্থানে রিকশার টায়ার, রাস্তার পাশে রাখা ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীতে আগুন দেয় তারা।

এরপর হেফাজত নেতাকর্মীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ চত্বরে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় আগুন দেয়। এছাড়াও হরতাল সমর্থনকারীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়, ব্যাংক এশিয়া ও ওস্তার আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে ভাঙচুর চালিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রাস্তায় ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে সেগুলোতে আগুন দিয়েছে তারা।

তবে এদিন সকাল থেকে শহরে পুলিশের কোনও সক্রিয় ভূমিকা চোখে পড়েনি। অনেকটাই নীরব ভূমিকায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এলাকাবাসীর দাবি, গত দুইদিনের সহিংসতা ও হরতাল কর্মসূচি ঘিরে শহরের বাইরে থেকে অনেক লোক শহরে ঢুকেছে। সেইসব বহিরাগতরাই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। পুরো শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় মাদরাসা ছাত্ররা পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ালে অন্তত ৫ জনের প্রাণহানি হয়। একইসময়ে শহরের কান্দিরপাড়া এলাকাতেও মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এসব সংঘর্ষে আহত অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকালের সংঘর্ষে নিহত ৫ জন হলেন- সুহিলপুর ইউনিয়নের হারিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে ওয়ার্কশপের দোকানি জুরু আলম (৩৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে শ্রমিক বাদল মিয়া (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২), বুধল ইউনিয়নের বুধল গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে শ্রমিক মো. কাউসার (২৫) ও সদর উপজেলার সরিদপুর গ্রামের জুবায়ের (১৪)।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্ত্রীর দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে থানা ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালালে ৪ জন নিহত হয়। ওইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাণ্ডব চালায় কওমি মাদরাসার ছাত্ররা। তারা রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এসব মামলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার জনকে আসামি করে শনিবার দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে।

সর্বশেষ নিউজ