top countries investing in bitcoin ameritrade trading platform the epic trading platform binary options snr gdmfx binary options best trading platform for chrome best options trading course review trading strategy guides bitcoin alexey gubarev binary options como investir em bitcoins 2016 guaranteed profits with binary options binary option strategy that works big mike binary option minimum trade 1 how much money to start investing in bitcoin buy bitcoin for investment crypto trading mastery course download should i invest in bitcoin stock bitcoin investment adverts learn binary options vanguard stock trading platform why crypto trading is different 2017;best bitcoin trading platform what if invested in bitcoin sec registered binary options brokers bitcoin futures trading on cme binary options signals that work purple color on trading platform where is bitcoin trading banned iq binary option app best binary option and forex instant alert indicator investing in bitcoin reddit best designed trading platform should not invest in bitcoin how to invest ira money in bitcoin crypto trading plan bitcoin and futures trading .00 aud to usd does nadex provide 1099 for binary options bitcoin gambling investment is bitcoin an investment asset list of israeli binary options companies bitcoin investment format bitcoin tax margin trading crypto group trading stash invest bitcoin fractals interactive brokers trading platform best bitcoin historical trading days virtual world binary option pro free download nadex binary options trading commission bitcoin gold worth investing bitcoin invest club withdrawal tensorflow bitcoin trading top 10 binary options brokers in india bitcoin trading app review top binary options in uae catalyst trading platform how to trade news release in binary option is bitcoin worth investing in 2018 uk binary option เทคน ค what is bitcoin trading?
৬, মে, ২০২১, বৃহস্পতিবার

ভারতে জরুরি ওষুধ-চিকিৎসা উপকরণ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত প্রতিবেশি ভারতে মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি যোগাতে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

ভারতে পাঠানোর তালিকায় থাকা এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে, দশ হাজার ডোজ ইনজেক্টেবল অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ, ওরাল অ্যান্টি-ভাইরাল, ৩০ হাজার পিপিই কিট এবং কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট।

একইসঙ্গে ভারতে কোভিড-১৯ এর ঊর্ধ্বমুখী বিপর্যয়ের মাত্রায় ও বিপুল প্রাণহানিতে বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজে বলা হয়, “ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি দেশ ভারতের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ সংহতি জানাচ্ছে; সেখানকার নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সকল সম্ভাব্য উপায়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের মানুষের প্রার্থনা ভারতের জনগণের সাথে রয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ভারতকে আরও সহায়তা দিতে আগ্রহী।”

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গের ভয়াবহতার শিকার হওয়া ভারত এখন তীব্র অক্সিজেন স্বল্পতায় রয়েছে। এই অবস্থায়, ভারতকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর যন্ত্র পাঠিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোও সাহায্য পাঠাবে বলে জানিয়েছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশন জানিয়েছে, তারা ভারতে অক্সিজেন ও ওষুধ দুটোই পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এদিকে ভারত যেন অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন আরো বেশি পরিমাণে বানাতে পারে, সেজন্য ভ্যাকসিনের কাঁচামাল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “করোনা মহামারির একদম শুরুতে যখন আমরা বিপর্যয়ে ছিলাম; তখন ভারত যেভাবে আমাদের সাহায্য করেছে, আমরাও তাদের প্রয়োজনের সময় সেভাবে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।”

সীমান্ত সংঘর্ষ ও নানা বিষয়ে ভারতের প্রতিবেশী দেশ ও চিরশত্রু পাকিস্তানও চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইট বার্তায় ভারতীয় জনগণের ‘দ্রুত আরোগ্য লাভ’ কামনা করেছেন।

ভারতের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সৌদি আরবও। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি ভারতকে গত রবিবার ৮০ মেট্রিক টন তরল অক্সিজেন উপহার দিয়েছে।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। প্রতিদিনই দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ছে। মোট মৃত্যু দুই লাখ ছাড়ানোর পরদিনই নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ল দেশটি। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন রেকর্ড তিন হাজার ৬৪৭ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ।

করোনার পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৬৪৭ জন। ভারতে করোনার ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি ৮৩ লাখ ৬৮৮ হাজার ৯৬৭ জন এবং মারা গেছেন দুই লাখ চার হাজার ৮১২ জন। আক্রান্তের দিক থেকে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে ২০ লাখ নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সারিবদ্ধ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সই বলে দিচ্ছে ভারতের করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা। কবরস্থান ও শ্মশানে সাদা গাড়ির বহর। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার আছেই। সেই সঙ্গে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

ভারতীয়রা বলছেন, আমরা কেনো ভয় পাবো না বলতে পারেন। কি হচ্ছে তা তো দেখতেই পাচ্ছি। অক্সিজেন নেই, হাসপাতালে বেড নেই, অ্যাম্বুলেন্সেই রোগী মারা যাচ্ছ। শ্মশানে চিতা জ্বালানোর মতো কাঠও নেই।

গেল কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় বুধবারও (২৮ এপ্রিল) করোনায় ভারতে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় চার লাখ। এরমধ্যে শুধু মহারাষ্ট্রেই একদিনে মারা গেছে রেকর্ড এক হাজার মানুষ। আর তাই রাজ্যটিতে নতুন করে লকডাউনের মেয়াদ ১৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ভারতে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার ৯৯ শতাংশ এবং মারা যাওয়ার হার এক শতাংশ। সে দেশে বর্তমানে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছে আট হাজার ৯৪৪ জন এবং বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় যতসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, তা আগে কখনো হয়নি। তা ছাড়া ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তে ও মৃত্যুতে একটি বিশ্ব রেকর্ডও হয়েছে। বিশ্বের কোনো দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে এত রোগী আগে কখনো শনাক্ত হয়নি।

করোনাবিষয়ক তথ্য হালনাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, ভারতে আট দিন ধরে তিন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তার আগে ১৫ এপ্রিল থেকে দেশটিতে প্রতিদিন দুই লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। আর নয় দিন ধরে ভারতে দুই হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন।

ভারতে কয়েক দিন ধরেই করোনা রোগী শনাক্তে বিশ্ব রেকর্ড হচ্ছে। বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ডটি গত বৃহস্পতিবারের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। সংক্রমণের দিক দিয়ে সম্প্রতি ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত। আর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পর চলতি মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে আছে ভারত। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে থাকা ওই তিনটি দেশের সংকট বর্তমানে ভারতে সৃষ্ট জরুরি পরিস্থিতির মতো নয়।

ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। তারপর রয়েছে কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গ। ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও হরিয়ানার পরিস্থিতিও অবনতিশীল। করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউসহ বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় দেশটি তার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম।

দেশটির হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানের অনেক হাসপাতালে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালগুলো অক্সিজেন চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠাচ্ছে।

ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানিও বলেছে, তারা ভারতকে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে আরম্ভ হয়। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন পিক বা চূড়ায় উপনীত হয়নি। এ কারণে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কবে নাগাদ নিম্নমুখী হতে পারে, সে সম্পর্কে দেশটির বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

সর্বশেষ নিউজ