২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

ভিত্তিপ্রস্তর ও টেন্ডারের চার বছরে নির্মাণ হয়নি মহালছড়ি ফায়ার স্টেশন

জসিম উদ্দিন জয়নাল,খাগড়াছড়িঃ পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চার বছরে নির্মাণ হয়নি মহালছড়ি ফায়ার স্টেশন।

২০১৭ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কর্ফোস চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (এমপি) ফায়ার সার্ভিসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কিন্তু ভূমি জটিলতা ও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে নির্মাণ হচ্ছে না ফায়ার স্টেশন। ভোগান্তিতে এলাকার সাধারন জনগণ। ফলে তিন বছর ধরে ঝুলে আছে এর নির্মাণ কাজ। এতে এলাকায় বড় ধরনের অগ্নি ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, গণপূর্ত বিভাগ এর অধীনে সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদর স্থানে ১৫৬ টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন করা সম্পূর্ণ হলেও মহালছড়ি কুমিল্লাটিলা নামক এলাকায় ২০১৭ সালে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগ টেন্ডার আহ্বান করেন। টেন্ডারের ভিত্তিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাক্সফোর্স চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (এমপি) ফায়ার সার্ভিসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও নির্মাণ হয়নি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। পরবর্তীতে মো. আক্তার-উল আলম তার জায়গা দাবি করে হাইকোর্টে একটি রীট করেন। ফলে হাইকোর্টে স্তগিতাদেশের কারণে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে।

মো. আক্তার-উল আলমের কাছে তার জায়গার বৈধ কাগজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মহালছড়ির কুমিল্লাটিলা নামক ফ্রিসল্যান্ডের জায়গায় আমার নামে আঞ্চলিক দলিলমূলে বিভিন্ন দাগে প্রায় ১৪ (চৌদ্দ) একর জায়গা ক্রয় করেছি।’

মহালছড়ি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন জানান, মহালছড়ি বাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের। উক্ত কাজের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দেন-দরবার শেষে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হলেও আক্তার-উল আলমের মামলার কারণে আশার মুখ দেখছেনা মহালছড়ি বাসী। প্রতিবছরই অগ্নিদুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।

এ বিষয়ে মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন শীল জানান, আক্তার-উল আলম যে জায়গার দাবি করছেন তার নামে বৈধ কোনো ভূমির কাগজপত্র নেই। এই জায়গাটি ফ্রিসল্যান্ডের সরকারি জায়গা। তার নামে কোনো স্থায়ী বাসিন্দার সনদও নেই। ভূমি অফিসের রেজিস্ট্রারেও তার নাম নেই।তিনি আরো বলেন ২০১৯সালের দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) একি মিত্র চাকমা , হাইকোর্ট থেকে স্থগিত আদেশ আসার পর আক্তার-উল আলম’কে ডেকে ছিলেন, তার জায়গার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক মো:দিদারুল আলম বলেন,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৫৬ প্রকল্পের অনুকুলে ২০১৭-২০১৮অর্থসালে টেন্ডার হওয়ার পর স্হানীয় সংসদ সদস্য উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক ট্রাস্কর্ফোস চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (এমপি) ভিওিপ্রস্তর স্হাপন করার পর ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা করা হলে জজর্কোট সরকারের পক্ষে রায় দেয় আদালতের এ রায়কে তোয়াক্কা না করে পূনরায় হাইকোর্টে রিট করায় বর্তমানে কাজটি স্হগিত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মামলার কপি গুলো সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উধধর্তন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আইনজীবী ইতি মধ্যে কাজ শুরু করেছে।ভূমি জটিলতা শেষ হলে দ্রুত নির্মান করা হবে মহালছড়ি ফায়ার স্টেশন।

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দও জানান,ফায়ার স্টেশন করার জন্য জায়গা নির্ধারন করা হয়েছিল মহালছড়ি কুমিল্লাটিলা নামক এলাকায় আক্তার-উল আলম যে জায়গার দাবি করছেন তার নামে বৈধ কোনো ভূমির কাগজপত্র নেই। এই জায়গাটি ফ্রিসল্যান্ডের সরকারি জায়গা।তবে হাইকোর্টে রিট করায় ভূমিজটিলতা শেষ হলে ফায়ার স্টেশন এর কার্যক্রম শুরু হবে।

খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৫৬ প্রকল্পের অনুকুলে ২০১৭-২০১৮অর্থসালে মহালছড়ি ফায়ার স্টেশনের ভিওিপ্রস্তর স্হাপন করার পর মামলার জটিলতার কারনে কাজটি স্হগিত।মামলা শেষ হলে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

সর্বশেষ নিউজ