৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

শ্রীনগরে পদ্মার চরে ৫০০ বিঘা সরকারি জমিতে ভুট্রার চাষ

মোহন মোড়ল,শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল এলাকার পদ্মার তীরবর্তী চরে ৫০০ বিঘা সরকারি জমিতে ভুট্রার চাষাবাদ করা হলেও স্থানীয় ভূমি সহকারী এই বিষয়ে কিছুই জানেন না! অথচ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মহল চরের এসব জমিতে কয়েক বছর যাবাত ভুট্রা চাষ করে যাচ্ছে। গতবছর এনিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টনক নড়ে।

এবছরও চরের এসব জমিতে ভুট্রার চাষাবাদে মানা হচ্ছেনা সরকারি নীতিমালা। সিন্ডিকেট মহলটি চরের শত শত হেক্টর জমিতে ভুট্রার চাষ করে কোটি টাকার বানিজ্য করে নিচ্ছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে চরের এসব ভুট্রা চাষে যাচাইবাছাই না করে সরকারিভাবে প্রণোদনা দিয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণে শ্রীনগরের ভাগ্যকুলসহ রাঢ়িখাল ও বাঘড়ার আংশিক মৌজায় শতশত বিঘা ভুট্রার আবাদ করা হয়েছে। বেশকিছু শ্রমিককে জমি থেকে তাজা ভুট্রা গাছ তুলছেন। এসব তাজা গাছ কাটিং মেশিনে ছোট ছোট আকারে টুকরো করা হচ্ছে। পরে এসব ভুট্রার সেলাইস (গো-খাবার) মাহিন্দ্রা ট্রলি ও ড্রামট্রাকে করে পাঁচার করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী লৌহজং উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে।
এবিষয়ে শ্রমিকরা জানায়, এসব আবাদি জমির মালিককে তারা চিনেন না। তবে ভাগ্যকুলের দক্ষিন কামারগাঁও এলাকার কাউসার খান নামে এক ব্যক্তি দিনমজুরের কাজের জন্য তাদেরকে এনেছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট মহলের কারসাজিতে বিস্তীর্ণ চরের সরকারি জমিতে ভুট্রার আবাদ করে আসছে। সিন্ডিকেট মহলের অন্যতম সদস্য কাউসার খান বিনা অনুমোতিতে চরের জমিতে ৩ বছর যাবত ভুট্রা চাষ করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে যাচ্ছে। সঠিক তদারকীর অভাবে মোটা অঙ্কের সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সিন্ডিকেটটি তাদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে। এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। কাউসার খানের কাছে এবিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভাগ্যকুল ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনিও এবিষয়ে সুনিদিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন গত বছরসহ এবছরেও চরে ব্যাপক ভুট্রার চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহুতু চরের মালিকানা সরকার সেই হিসেব অনুযায়ী এসব জমিতে চাষাবাসের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-নীতি মানতে হবে। তবে দুঃখের বিষয় আমি শত চেষ্টা করেও এসব জমিতে কারা ভুট্রার চাষাবাদ করছেন সেই বিষয়ে এখনও জানতে পারিনি। এবিষয়ে উধ্বর্তন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করবো।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শান্তনা রানী জানান, চরে এসব ভুট্রা গো-খাবার হিসেবে লৌহজং যাচ্ছে। তিনি বলেন, চরের জমিতে তারা বৈধভাবে না অবৈধভাবে ভুট্রার চাষাবাদ করছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। চরের ৪০ বিঘা জমিতে ভুট্রা চাষে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া কথা বলেল তিনি।

সর্বশেষ নিউজ