৪, মার্চ, ২০২১, বৃহস্পতিবার

ভেজাল মদে সয়লাব দেশ, আতংকে মাদকসেবীরা !

ভেজাল মদে সয়লাব দেশ। ভেজাল ও বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে বাড়ছে উদ্বেগ। সম্প্রতি বগুড়া, গাজীপুর এজটি রিসোর্টে ও ঢাকায় মিলিয়ে ‘বিষাক্ত মদ’ পানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশি মদের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি নকল মদ বিক্রেতা চক্র।

সম্প্রতি বগুড়ায় ১৬ জন, গাজীপুরের একটি রিসোর্টে তিন জন এবং রাজধানীর একটি ভার্সিটির দুই জনের মৃত্যু হয়। ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে৷ গত এক মাসে এই স্পিরিটে তৈরি মদ খেয়ে সারা দেশে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেক্টিফায়েড স্পিরিটে ৯৫ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। এই স্পিরিটে তৈরি মদ খেয়ে কেউ মারা যান না। সম্প্রতি যারা ভেজাল মদ খেয়ে মারা যাচ্ছেন এটা তৈরি করা হয়েছে মিথাইল অ্যালকোহল দিয়ে।

সূত্র বলছে, বিষাক্ত মিথাইল অ্যালকোহল সাধারণত ট্যানারি শিল্পে এবং কাঠের আসবাব রং করার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। মাত্র ১০ মিলি লিটারের চেয়ে বেশি এই স্পিরিট খেলেই চোখ জ্বালাপোড়া করে অন্ধত্ববরণ করতে হবে। আর পরিমানে বেশি খেলে নিশ্চিত মৃত্যু হবে। সহজলভ্য এবং দাম কম হওয়ায় এই স্পিরিটে অবৈধভাবে বিষাক্ত মদ তৈরি হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদিত মদের দোকান রয়েছে ২০৩টি, কিন্তু এর বাইরে অবৈধ মদের দোকান আছে কয়েকগুণ৷ প্রভাব আর ক্ষমতার দাপটে এসব অবৈধ দোকান পরিচালনা করা হয়৷

সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইসেন্সধারী মদের বারগুলোতে বিদেশি মদ বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে শুল্ক ও গোয়েন্দারা। এতে করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বোতলে মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল, স্পিরিটের পাশাপাশি নেশাজাতীয় অন্যান্য পদার্থ মেশানো নকল মদে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ভেজাল মদ প্রস্তুতকারীরা ভালোমন্দের কথা বিবেচনা না করে শুধু বাড়তি লাভের আশায় এ ধরনের বিষাক্ত মদ বিক্রি করছে, যা পান করে সাম্প্রতি মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক কর্মকর্তা দুলাল কৃষ্ণ সাহা বিডি২৪লাইভকে বলেন, মদ বানাতে হয় ইথাইল অ্যালকোহল দিয়ে। ইথাইল অ্যালকোহল খেলে মানুষ সহজে মারা যায় না। যেগুলো পান করে মানুষ মারা যাচ্ছে এগুলো বানানো হয়েছে মিথাইল অ্যালকোহল দিয়ে যা ১০ মিলি লিটারের চেয়ে বেশি এই স্পিরিট খেলেই চোখ অন্ধত্ববরণ করা যথেষ্ট। এর পরিমাণ বেশি হলে লিভার ড্যামেজ হয়ে মানুষ মারা যাবেন। এটা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার হয় কাজে ব্যবহার হয় এটা খাবার কোন পানিয় নয়।

তিনি বলেন, যে ইথাইল মিথাইল বোঝেনা সে যদি মদ তৈরি করে তাহলে তো এই অবস্থা হবেই। দেশে এমন লোকের সংখ্যাই বেশি। যারা মদ পান করে তাদের উচিত হবে পরিহার করতে না পারলেও রেজিস্ট্রারকৃত বারে বসে মদ পান করা। রেজিস্ট্রারকৃত বারের মদ ছাড়া বিভিন্ন যায়গা থেকে যেই মদ আসছে তাতেই মানিষ মারা যাচ্ছে। ইথাইল অ্যালকোহল এর মূল্য অনেক বেশি, আর মিথাইল অ্যালকোহলের মূল্য কম হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় এটা দিয়ে মদ তৈরি করে থাকে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা বিডি২৪লাইভকে বলেন, মদ পানে মৃত্যুর কারণ হচ্ছে ইথাইল অ্যালকোহল এর যায়গায় মিথাইল অ্যালকোহল। মিথাইল অ্যালকোহল ব্যবহার করার কারনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মদের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ করায় এখন ভেজাল মদ বিক্রি হচ্ছে, মানুষ এটাই পান করছে আর এভাবে মারা যাচ্ছে। এটা খুবই সিরিয়াস জিনিস।

তিনি বলেন, যাদের মদ বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে তাদের নিকট থেকেই মদ ক্রয় করা যেতে পারে। তাদেরটাও মাত্রা রয়েছে, মাত্রার অতিরিক্ত পান করাটা সবদিক দিয়েই খারাপ। মিথাইল অ্যালকোহলের জন্য বেশি ক্ষতি হয়। মৃত্যু হয়, মৃত্যু না হলেও যারা বেঁচে থাকে তাদের চোখ অন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে ভেজাল মদ পান করে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া আতঙ্কে রয়েছেন মানকসেবীদের মধ্যে অনেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ভেজাল মদ খেয়ে দেশে মৃত্যুর বৃদ্ধি পাওয়ার পর তারা মদ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি মদ সংগ্রহে আরও সচেতন হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাদকসেবী এই প্রতিবেদককে জানান, তারা ভেজাল মদ তৈরি কারকদের কঠোর শাস্তি চান।

সর্বশেষ নিউজ