২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

ভয়াবহ পরিস্থিতি, দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি

ভারতে করোনা ভাইরাসে মহারাষ্ট্রের পর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দিল্লির। অক্সিজেনের অভাব। দেখা নেই রেমডেসিভিরের মতো ওষুধের। বাড়ছে মৃতের মিছিল। অসহায় রোগী ও তাদের পরিজনেরা। নিরুপায় চিকিৎসক, প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধিরা।

এমন ভয়বহ পরিস্থিতিতে শাসকদল আমআদমি পার্টির বিধায়ক সোয়েব ইকবাল দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি শাসনের আবেদন জানালেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মতিয়া মহলের ছ’বারের বিধায়ক সোয়েব ইকবালের কথায়, ‘দিল্লির অবস্যা দেখে আমি ব্যথিত। খুব দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে। মানুষ অক্সিজেন, ওষুধ পাচ্ছেন না। আমি ঘুমোতে পাচ্ছি না। আমার বন্ধু করোনা আক্রান্ত। হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও সে অক্সিজেন ও ভেন্টিলের পাচ্ছে না। রেমডেসিভিরের জন্য প্রেসক্রিপশন থাকলেও মিলছে না। ওঁর ছেলেরা হন্যে হয়ে সর্বত্র ঘুরছে। বিধায়ক হিসাবে আমি কোনও সাহায্যই করতে পাচ্ছি না। খুব লজ্জা করছে। আমি ছ’বারের বিধায়ক। কিন্তু, কোনও নোডাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পাচ্ছি না। এই অবস্থায় দি্ললি হাই কোর্টের কাছে আমার অনুরোধ দিল্লিতে রাষ্ট্র্পতি শাসন জারি করা হোক, নয়তো রাস্তায় মৃতদেহ জমতে থাকবে।’

মতিয়া মহলের আপ বিধায়ক এর আগে একাধিক দলের ছিলেন। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি বারংবার দল বদল করে বিধায়ক পদে জয় পেয়েছেন। ২০১৫ সালে আপে যোগদানের আগে ইকবাল কংগ্রেসে ছিলেন। তারও আগে জনতা দলের ছিলেন। পরে জনতা দল সেকুলার, ইউনাইটেডের হয়েও ভোটে লড়াই করে জয় হাসিল করেছেন।

এর আগে দিল্লিরতে অক্সিজেনের অমিত নিয়ে ভয়াবহ অবস্থার কথা ভিডিও কনফারেন্সেই প্রদানমন্ত্রীকে মোদীকে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়েছিল। এরপর কোরনায় দিল্লির করুণ পরিণতির জন্য রাজধানীতে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুললেন শষাসক দলেরই বিধায়ক। এক্ষেত্রে কী আপ বিধায়ক বকলমে কেজরিওয়াল সরকাকেই দায়ী করলেন? বিতর্ক দানা বাধলেও এবিষয়ে মুখ খোলেননি আম আদমির পার্টিপর কোনও নেতা।

তবে, সোয়েব ইকবালের দাবিকে কেন্দ্র করে কেজরিওয়াল সরকারকে বিঁধেছে বিজেপি ও কংগ্রেস। বিজেপি মুখপাত্র হরিশ খুরানা বলেছেন, ‘ইকবাল শুদু বিধায়কই নন. উনি দিল্লি বিধানসভার সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠও বটে। তাই ওনার মন্তব্য হেলাফেলার নয়। ওনার দাবিকে সমর্থন করেই বলব দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি সাসন জারি করা হোক। রাজধানীর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকা উতিত। মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল দিল্লির করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অক্ষম।’

দিল্লির কংগ্রেস ভাইস প্রেসিজডেন্ট অভিষেক দত্তের কথায়, ‘করোনা মোকাবিলায় দিল্লির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিষেবার দায়িত্ব সেনার নেওয়া উচিত। রাজ্যের বিরুদ্ধে আরটিপিসিআর পরীক্ষা ঢিমেতালে করার অভিযোহ রয়েছে। এচাড়া সরকার কোভিডে মৃতদের তত্যও সঠিকবাবে দিচ্ছে না।’

সর্বশেষ নিউজ