২০, মে, ২০২২, শুক্রবার

মহালছড়িতে ৭৫ বছর বয়সী বিধবা ভিক্ষুক পেল স্বপ্নের ঠিকানা

জসিম উদ্দিন জয়নাল,খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফেমাচিং মারমা ও ভিক্ষুক মা বাশাবী মারমা মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রতন শীলের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সরকারি ঘর পেয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো মা-মেয়ের। মহালছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের থলিপাড়ার বাসিন্দা তারা।

৭৫বছর বয়সী ভিক্ষুক বিধবা বাশাবী মারমা ১০ বছর আগে তার স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র মেয়ে ফেমাচিং মারমা (৩৫) জন্ম থেকে অন্ধ মেয়েকে নিয়ে মহালছড়ি ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে থাকেন।
জড়াজীর্ণ ভাঙ্গা পলিথিনের চাউনি দেওয়া কুড়ে ঘরে জন্ম থেকে অন্ধ দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়েকে নিয়ে জবুথুবু হয়ে কোন রকমে রাত্রিযাপন কারতেন। পলিথিনের তৈরি ঘরটিতে শীতে কিংবা রোদ বৃষ্টি ঝড়ে থাকতে হয়েছে এভাবেই। মাঝে মাঝে বৃষ্টির রাতে আশেপাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতেন গরু ঘর কিংবা অন্যের বারান্দায়।

মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন জায়গা মানুষের দূয়ারে দূয়ারে প্রতিদিন ভিক্ষা করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অন্ধ মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। কোন কোন সময় বয়সের বাড়ে শরীর অসুস্হ হলে একদিন ভিক্ষা করতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হয় মা মেয়ে। পেট চালানোই দায় যেখানে সেখানে নতুন ঘর পাওয়া বাশাবী মারমার জন্য আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কি হতে পারে।
বয়সের বাড়ে নুয়েপড়া বৃদ্ধা বিধবা ভিক্ষুক নারী তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ে নিয়ে সব সময় একটি নতুন ঘরের স্বপ্ন দেখতেন হতদরিদ্র বাশাবী মারমা। যে ঘরে মেয়েকে নিয়ে থাকবেন আনন্দ আর একটু আরামে। বৃষ্টি এলে বা ঝরের রাতে পরের ঘরে আশ্রয় নিতে হবে না যে ঘরটি ছেড়ে। আকাশ কুসুম কল্পনা বা স্বপ্ন নয় বাস্তবেই বৃদ্ধা ভিক্ষুক বাশাবী মারমা পেলেন স্বপ্নের ঠিকানা । যেমন ঘর চেয়েছিলেন বাশাবী মারমা তারচেয়েও ভালো ঘরই পেয়েছে বাশাবী মারমা ।

১লক্ষ ৭১ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ঘরটি একেবারে বিনামূল্যে পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি। শুধু কি ঘর? না ঘরই নয়, মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রতন শীলের সহযোগিতায় ৭৫বছরের বয়স্ক বিধবা ভিক্ষুক তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ের আনন্দ উল্লাস দেখে বাশাবী মারমার মুখে তৃপ্তি আর আনন্দের ছাপ স্পষ্টই বোঝা যায়। চোখে না দেখলেও তার মেয়ে পলিথিনের বেড়ার জায়গায় পাকা দেওয়াল আর পায়ের নিচে মাটির বদলে সমতল পাকা মেঝে তো ঠিকই উপলব্ধি করতে পারছেন তার আদরের একমাএ দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ে । বাশাবী মারমা কাপড়ের আচলে চোখের আনন্দাশ্রু মুছে আশীর্বাদ করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহালছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দত্ত ও মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রতন শীলের জন্য।

আবেগাপ্লুত বাশাবী মারমা বলেন, ভগবান তুমি যেন শেখ হাসিনারে আমার মত আরো যারা অসহায় আছে তাদের কে ঘর দেওয়ার শক্তি সামর্থ্য দাও। মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রতন শীল বলেন,মহালছড়ি ইউনিয়নের থলিপাড়ার বাসিন্দা ৭৫বছর বয়সী বিধবা ভিক্ষুক বাশাবী মারমাকে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ভিক্ষা করতে দেখা যায় একদিন খাগড়াছড়ি থেকে মহালছড়ি ফেরার পথে বাশাবী মারমার পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ঘরটি দেখে বাশাবী মারমাকে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বলি পরে তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাকে একটি ঘর, মেয়ে ফেমাচিং মারমাকে প্রতিবন্ধী ভাতা ও মাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়।

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচী ও প্রকল্পের আওতায় মহালছড়ি উপজেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মা-মেয়েকে সহ অনেক অসহায় পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ