১৯, অক্টোবর, ২০২১, মঙ্গলবার

মানবিক বিয়ে বলে ইসলামে কোনো বিধান নেই- ১২০০ আলেমের বিবৃতি

ইসলামে ‘মানবিক বিয়ে’ বলে কোনো বিধান নেই। ইসলামের নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণরূপে মনগড়া ও সাজানো এবং মিথ্যা ফতোয়া দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। বুধবার দুপুরে এক বিবৃতিতে ওই দাবি করেন নীলফামারীতে ১২০০ আলেম-ওলামা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা (মউশিক) শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ জেলা শাখার পক্ষে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন তারা।

একই সঙ্গে ইসলাম রক্ষার নামে সারা দেশে হেফাজতে ইসলাম যে তা’ণ্ডবলীলা চালিয়েছে তার প্রতিবাদসহ দোষীদের সাজার দাবি করেন আলেম-ওলামারা।

বিবৃতিতে সংগঠনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক এবং ছয় উপজেলার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সারা দেশে ধর্মের নামে হেফাজতে ইসলাম তা’ণ্ডব চালিয়েছে। পবিত্র ইসলামের দোহাই দিয়ে হেফাজত নেতা মামুনুল হক রিসোর্টে গিয়ে নারী নিয়ে বেহায়াপূর্ণ কাজে লিপ্ত হন।

শুধু তাই নয়, ইসলামকে ব্যবহার করে সেটিকে ‘মানবিক বিয়ে’ বলে জায়েজ করার অপ-তৎপরতা চালায় হেফাজতে ইসলাম। ধর্মের নামে মিথ্যা বিভিন্ন ফতোয়া আর মিথ্যাচারের মাধ্যমে বেহায়াপূর্ণ কাজকে কীভাবে হেফাজত নেতারা সমর্থন যোগালেন?

তারা জ্বালাও-পোড়াও ও তা’ণ্ডবের মাধ্যমে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন তা ইসলামবিরোধী। মানুষ হ’ত্যাকরা ইসলাম সমর্থন করে না। ২০১৩ সালে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ জাতি সম্পর্কে নানাবিধ ভুল তথ্য উপস্থাপন করে উত্তে’জনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সাথে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ও সাম্প্রদায়িক শক্তি মিলে অপ-তৎপরতা চালিয়েছে। যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র, নারী কেলে’ঙ্কারি, মসজিদ মাদ্রাসার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এনে নিজেরা ভোগ করাসহ নানা রকম অপকর্মের দলিল গ্রেপ্তার হওয়া হেফাজত নেতাদের স্বীকারোক্তি থেকে আমরা জানতে পারছি। পাকিস্থানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আছে বলেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

তারা আমাদের লজ্জিত করেছে, ইসলাম ও আলেম-ওলামা সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ কাজটি হেফাজতে ইসলাম ও সাম্প্রদায়িক শক্তি জামায়াত শিবির মিলে ধর্মকে ব্যবহার করে সুপরিকল্পিতভাবে করছে। করোনা ও টিকা নিয়েও অপপ্রচার চালাতে ছাড়েননি তারা।

আলোচনায় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, দেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং রাষ্ট্রপ্রধানসহ সবাইকে নিয়ে কু-রুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে হেফাজতে ইসলাম।

বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম ও সাম্প্রদায়িক শক্তি ধর্মের নামে অপকর্ম করে দেশ, সমাজ ও ইসলামের যে ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃ’ণা জ্ঞাপন করে দায়ীদের সাজার দাবি জানানো হয়।

ওই লিখিত বিবৃতি সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহের কথা স্বীকার করে সংগঠনটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ইসলামের নিরাপত্তা বিধানে, ইসলামের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধর্মের নামে মিথ্যাচারকারী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরু’দ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সর্বশেষ নিউজ