২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

মিয়ানমারে বিমান হামলা, পালাচ্ছে হাজারও গ্রামবাসী

মিয়ানমারের দক্ষিণপূর্বের কারেন রাজ্যে আদিবাসী সশস্ত্রগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পর তিন হাজারের বেশি গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী শনিবার রাতে থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী মুতরাউ জেলার পাঁচটি এলাকায় বিমান হামলা চালায়। গৃহহীনদের একটি আশ্রয় কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

রবিবার থাই পিবিএস-র খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রায় তিন হাজার শরণার্থী থাইল্যান্ড পৌঁছেছেন। এছাড়া কারেন উইম্যান্স অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘এই মুহূর্তে তিন হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে আছে। তারা সীমান্ত অতিক্রম করে শরণার্থী হিসেবে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিতে চায়।”

শনিবার রাতের ওই বিমান হামলায় আদিবাসী সশস্ত্র গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ত্রাণ সংস্থা ‘ফ্রি বার্মা রেঞ্জার্স’ এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড ইউবাঙ্ক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে এখানে বিমান হামলার আওয়াজ পাইনি। দ্বিতীয়ত, ওই হামলা রাতে করা হয়েছে। তাই বলাই যায়, রাশিয়া এবং চীনের সহযোগিতায় বার্মার (মিয়ানমার) সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটা খুবই প্রাণঘাতী।”

শনিবারের ওই হামলায় কেএনইউ নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গ্রামের ‍অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

শনিবার মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে দেশজুড়ে পুলিশের গুলিতে শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছের। যা গত ১ ফেব্রুয়ারির সেনাঅভ্যুত্থানের পর দেশটিতে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে সব থেকে রক্তাক্ত দিনে পরিণত হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নিতে ওই দিন একটি সেনাপোস্টে হামলা চালিয়ে একজন কর্নেলসহ ১০ সেনাসদস্যকে হত্যা করার দাবি করে কেএনইউ। তার প্রতিশোধ নিতেই এই বিমান হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

সর্বশেষ নিউজ