১৯, অক্টোবর, ২০২১, মঙ্গলবার

মৃতদেহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দিল্লি

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারত। দেশটিতে করোনা মহামারির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড়ের মতো রাজধানী দিল্লির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। দিল্লির সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগমবোধ ঘাটে দৈনিক শেষকৃত্যের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ১৫ থেকে বেড়ে একবারে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতে প্রথমবারের মতো একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখেরও বেশি মানুষ। মারা গেছে এক হাজারের বেশি। দেশটির সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত মঙ্গলবার রাতে গৌতম নামে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির দাদা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় মৃতদেহ নিয়ে নিগমবোধ শ্মশান ঘাটে পৌঁছান গৌতম। কিন্তু এরপর ৫ ঘণ্টা পার হয়ে যায়, বেলা আড়াইটার সময়েও জায়গা না পেয়ে শেষকৃত্য করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়, সমগ্র দিল্লির পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, এটি ঠিক তারই পূর্বাভাস।

গৌতম জানান, ‘আমরা সকাল সাড়ে ৮টায় এখানে পৌঁছেছি। আমাদের সিরিয়াল এখনো আসেনি। পরিস্থিতি খুব খারাপ। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে দু’টি থেকে তিনটি করে মৃতদেহ আনা হচ্ছে।’

একই অবস্থা দিল্লির কবরস্থানগুলোরও। আইটিওর কাছে দিল্লির সবচেয়ে বড় কবরস্থানে বড় জেসিবি ক্রেন ব্যবহার করে কবর খোঁড়ার কাজ চলছে। কিন্তু এরপরও সেখানে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। পরিস্থিতি যেকোনো সময় হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ শামীম এনডিটিভি’কে জানিয়েছেন, আগে দিনে যেখানে একটি বা দুটি মৃতদেহ আসত, এখন সেখানে দিনে ১৭টি করে মৃতদেহ আসছে। গত পাঁচদিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আমাদের হাতে আর মাত্র ৯০ জনের জায়গা রয়েছে। যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এখানে জায়গার অভাব দেখা দেবে।’

দিল্লির ফোরটিস এসকোর্টস হার্ট ইনস্টিটিউটের কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারির ডিরেক্টর ড. ঋত্বিক রাজ ভূঁইয়া বলছেন, ‘আক্রান্ত রোগীরা খুব দেরি করে হাসপাতালে আসছেন, তাই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হচ্ছে।’

এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণগুলোকে সাধারণ কাশি বা ফ্লু হিসেবে বিবেচনা করছেনে। পরে অবস্থা খারাপ হলে উপায় না পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন।’

তবে হাসপাতালে আসলেই যে সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, একথাও ঠিক নয়। দিল্লিতে অনেক হাসপাতালে শয্যার সংকট রয়েছে। বহু মানুষ রোগী নিয়ে হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭৩৯ জন। এতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ। মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই দেশটির অবস্থান।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এলেও মৃতের তালিকায় দেশটির অবস্থান চতুর্থ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৮ জনের। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মোট মারা গেলেন এক লাখ ৭৩ হাজার ১২৩ জন।

ভারতজুড়ে ১৮-১৯টি রাজ্যে এখন উল্লেখযোগ্য হারে সংক্রমণ হচ্ছে। তবে সবার শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্রের নাম। সংক্রমণ রোধে রাজ্যটিতে কারফিউ জারির পরও গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে এই প্রথমবারের মতো একদিনে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজার। রাজধানী দিল্লিতে ছাড়িয়েছে ১৭ হাজার।

সর্বশেষ নিউজ