৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

মেয়ে হওয়ায় ব্রিজের ওপর থেকে ছুড়ে ফেলে দিলেন নানা

সাতক্ষীরায় আশাশুনিতে মেয়ে হওয়ায় নবজাতককে ব্রিজের ওপর থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নানার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে শিশুটি মারা যায়।

জানা যায়, শিশুটির মায়ের নাম দীপিকা মণ্ডল। তার স্বামীর নাম মৃন্ময় মণ্ডল। সাতক্ষীরায় উপজেলার বড়দল ইউপির ফকরাবাদ গ্রামে তাদের বাড়ি। শিশুটির নানা কার্তিক মণ্ডল ও তার নানী উর্মি মণ্ডল একই এলাকার বাসিন্দা। কার্তিক মণ্ডল পেশায় একজন তেল ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার ভোরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কার্তিক মণ্ডল শিশুটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা বলে আশাশুনির কুল্ল্যা গুনাকরকাটী ব্রিজের ওপর থেকে নিচের চরে ছুঁড়ে ফেলে দেন। এতে তার মাথা থেঁতলে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। খবর পেয়ে কুল্ল্যা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুন শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীপিকা মণ্ডল অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আশাশুনির বুধহাটা জনসেবা স্বাস্থ্য ক্লিনিকের কেয়ারে ছিলেন। প্রসব যন্ত্রণা শুরু হওয়ার পর তাকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। আল্ট্রাসনোতে শিশুটি মেয়ে এবং বিকলাঙ্গ বলে জানা যায়

সোমবার সন্ধ্যায় সিজারের মাধ্যমে দীপিকা মণ্ডল ওই মেয়ে শিশুটির জন্ম দেন। রাতেই তার অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে সাতক্ষীরায় চিকিৎসার জন্য আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দীপিকা জানান, তার শ্বশুর কার্তিক মণ্ডল শিশুটিকে নিয়ে যান। এরপর শিশুটি কোথায় তা তিনি জানেন না।

শিশুটির নানী উর্মি মণ্ডল জানান, চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে তিনি তার স্বামীর হাতে তুলে দেন। তিনিও জানেন না শিশুটির ভাগ্যে কি ঘটেছে।

তবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দীপিকার স্বামী ও পরিবারের লোকজন আগেই বলেছিল মেয়ে শিশু হলে তাকে ঘরে রাখা হবে না। প্রয়োজনে দীপিকাকেও তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এজন্যই হয় তো শিশুটিকে ব্রিজের ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে ধারণা করছেন তারা।

ঘটনার পর থেকে কার্তিক মণ্ডলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দীপিকা মণ্ডল ও তার শাশুড়ি উর্মি মণ্ডল বুধহাটা জনসেবা ক্লিনিকে এখনও রয়েছেন।

আশাশুনি থানার ওসি মো. গোলাম কবির জানান, তিনি নিজেও এসব তথ্য পেয়েছেন। ফেসবুকে দেখেছেন এবং বিভিন্ন সূত্র থেকেও খবরগুলো পেয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি জেনেছি মেয়ে শিশু হওয়ায় তাকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। আমি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি যাচাই বাছাই করছি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সর্বশেষ নিউজ