২১, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

মোদীকে ভালোবেসে ৮টি ‘লাশ’ উপহার দিয়েছে সরকার: জাফরুল্লাহ

এই সরকার জনগণকে ভালোবাসে না, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ভালোবাসে। তাই সরকার তাকে ৮টি লাশ উপহার দিয়েছে ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গতকাল নরেন্দ্র মোদী অনেক কথা বললেন, কিন্তু তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে কিছু বললেন না। মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো একটি ভুল কাজ হয়েছে।’

শনিবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ জনতার উপর নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে নিহত এবং শতশত মানুষ আহত হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।

সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যেদিন স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন আওয়ামী লীগের এই দুধর্ষ নেতারা কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলেন, কোন ইঁদুরের গর্তে ঢুকেছিলেন তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। একমাত্র কাদের সিদ্দিকিই প্রকাশ্যে প্রতিবাদে এসেছিলেন। আর তাদের আওয়ামী লীগের প্রিয় নেতারা যেমন আব্দুল মালেক উকিল কি বলেছিলেন? জালেমের হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। আমি তখন লন্ডনে, আমার অজান্তেই চোখের পানি ঝরছিল।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা যাদের ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছেন সেই হেফাজতও আজ প্রতিবাদ করছে। আপনার পার্টির লোকেরাও, আপনার সামনে এসে কথা বলতে ভয় পায়, তবুও তারা প্রতিবাদ করেছে। কিভাবে? আপনি স্মরণ করুণ। ১৭ই মার্চ। আপনার পিতার জন্মদিবস। সেদিন আওয়ামী লীগের প্ররোচনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, হয়েছিল শাল্লাতে সংখালঘুর উপর অত্যাচার। তারা সংখালঘুর উপর অত্যাচার করেনি, তারা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, মোদিকে আমন্ত্রণ একটি ভুল কাজ।’

এ সময় নরেন্দ্র মোদীর জেল খাটার বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, ‘মোদী সাহেব বলেছেন ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের ওই সময় জেলে ছিলেন। কেন জেলে ছিলেন? পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন নাকি উনি? আর কোনো ভারতীয় নেতা তো ৭১ সনে জেলে যাননি। সত্যি কথা মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। উনি আজকে আবিষ্কার করছেন এখানে জঙ্গি। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করারকে অধিকার তাকে দিয়েছে? সুতরাং এসব বিষয় থেকে আপনি সরে আসেন প্রধানমন্ত্রী।’

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে আপনি সবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এমনকি আপনার বোন শেখ রেহানা থেকেও বিচ্ছিন্ন। আপনি ভারতের অনুগত দাসে পরিণত হয়েছেন। এখন আপনার যদি প্রস্তানের সময় হয়, তখন কে আপনার পাশে দাঁড়াবেন? হয়ত শেখ রেহানাই থাকবেন।

তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটা সমাবেশ। পুলিশ ভাইদের কাজ হলো শান্তি রক্ষা করা। এখানে কোনো উচ্ছৃঙ্খল জনতা নেই। তাই আপনারা আইন শৃঙ্খলার জন্য চুপচাপ দাঁড়ায় থাকেন। তাই আপনারা এখান থেকে কাউকে ধরে নিয়ে যাবেন না। প্রতিবাদ করা আমাদের মৌলিক অধিকার।’

সমাবেশে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার এই উৎসবকে মোদী এবং সরকারি দলের উৎসবে পরিণত করা হয়েছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের, স্বাধীনতার এবং ৩০ লাখ শহীদের সাথে বড় ধরনের অবমাননা করা হয়েছে। সরকার বাইতুল মোকারম ও চট্টগ্রামে এই ২৬ মার্চে রক্ত ঝরিয়েছে। গতকালকের নরেন্দ্র মোদী অনেক কথা বললেন, অনেক প্রশংসা করলেন কিন্তু তিস্তার পানির বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির কোন কথা নেই। সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে কিনা এরকম কোন কথা নেই। বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এমন একটি ফাঁদ তৈরি করেছে, বাংলাদেশে কোন দুর্যোগ হলে মানুষ ভারতে যেতে পারবেনা। সেই নরেন্দ্র মোদী সরকার কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু হয়?’

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, ‘এই সরকার তাদের সুপ্রিয় উগ্র-সাম্প্রদায়িক নরেন্দ্র মোদীকে খুশি করতে গতকাল ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ লীগ দিয়ে বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডব চালিয়েছে। এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যেভাবে অতর্কিতভাবে ঘুমন্ত নির্ভয়া জাতির উপর গণহত্যা চালিয়েছিল, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ২৬শে মার্চ এই সরকার আমাদের ওপরে সেই গণহত্যার শামিল একটি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। আজকে যদি দেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকতো তাহলে এই তাণ্ডব ঘটতে পারত না। তারা ক্ষমতায় আছে ভারতের কৃপায়। তাই তারা মোদীকে বুঝিয়ে দিয়েছে এদেশের মানুষ গুল্লায় যাক সেটার তোয়াক্কা করি না, আমরা আপনার ভালোবাসা চাই। তাই মোদিকে তারা ৮টি লাশ উপহার দিয়েছে।’

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

সর্বশেষ নিউজ