৭, মার্চ, ২০২১, রোববার

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চলবে : মিয়ানমার সেনাপ্রধান

রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করলেও টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার সপ্তাহপূর্তির দিনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেশবাসীকে আশার বাণী শুনিয়েছেন সেনাপ্রধান। সেই ভাষণে মিয়ানমারের রাখাইনের বাস্ত্যুচুত লোকজনকে বেসামরিক সরকারের আমলের চুক্তি অনুযায়ীই বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে সেনাপ্রধান মিন অংয়ের পুরো ভাষণ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশটির বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নেয়ার পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।

২০১৭ সালে রাখাইনে গণহত্যা ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজনকেউ এখনো ফেরানো সম্ভব হয়নি। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকারের টালবাহানায় প্রতিবারেই তা থমকে গেছে। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে গ্রেফতার ও সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে অনেকটাই চাপা পড়ে যায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু।

তবে অবশেষে সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে মিয়ানমার সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কাজ করবে সেনা সরকার। তবে সু চির মতো সেনাপ্রধানও একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি।

মিয়ানমার সেনাপ্রধান মিন অং লাইং বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি ও আমাদের নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়াদের ফেরাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আমরা অব্যাহত রাখবো।

তবে যে সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে সেই জান্তা সরকারের কাছে তারা কতটুকু নিরাপদ তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সেনা অভ্যুত্থানের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢলেরও আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক খায়ের মাহমুদ বলেন, রাখাইনে ছয় লাখের মত রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদেরকে আবারও জোর করে বিতাড়িত করা হবে না সে নিশ্চয়তা নেই। সে বিষয়ে আমাদের নজর রাখতে হবে।

এরইমধ্যে রাখাইনে থাকা ৬ লাখ রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

সর্বশেষ নিউজ