১, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৪শ’রও বেশি

কক্সবাজারে রেহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুনে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির মতে আর চারশ’রও বেশি নিখোঁজ আর ৪৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় হারিয়েছেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সাহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন তারা মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। উখিয়া থানার ওসি জানান, ওই সাত জনের শরীর পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যান ডার ক্লাও জেনেভার সাথে এক ভিডিও কনফারেন্সে আরো জানান আগুনে রোহিঙ্গাদের ১০ হাজার ঘর পুড়ে গেছে। আহত হয়েছেন ৫৬০ জন। তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এত বড় আগুনের ঘটনা আগে কখনো হয়নি। এই আগুন ভয়াবহ এবং ধংসাত্মক।’’

বুধবার উখিয়ার বালুখালির ৮( ডাব্লিউ) নাম্বার ক্যাম্প থেকে আগুনের শুরু। এরপর তা পাশের ৮(ই), ৯ এবং ১০ নাম্বার ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে।

শরণার্থী ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছুদ্দোহা নয়ন জানান, এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষ হয়নি, কাজ চলছে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার ঘর পুড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ৫০ হাজারের মত রোহিঙ্গা তাদের আশ্রয় হারিয়েছেন।

তিনি জানান, ‘‘তাদের একটি অংশ অন্য ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা আশ্রয় পাননি তাদের ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে তাঁবু খাটানোর কিছু সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে যাতে তাবুতে আশ্রয় নিতে পারেন। আর তাদের হাই প্রোটিন বিস্কুট এবং রান্না করা খাবার দেয়া হয়েছে।’’

আগুনে মোহাম্মদ শাকেরের পুরো আশ্রয় পুড়ে গেছে। তিনি তার সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে সোমবার চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। বিকেলে তিনি আগুনের খবর পান। তিনি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফিরে দেখেন সব পুড়ে গেছে। ৯ নাম্বার ক্যাম্পে তার স্ত্রী সন্তান ও বাব-মাসহ পরিবারের ১৪ জন থাকতেন। তিনি রাতে আর তাদের খুঁজে পাননি।

সকালে পাশের ক্যাম্পে তাদের খুঁজে পান। তিনি জানান, ‘‘তাদের কিছুই রক্ষা পায়নি। শুধু গায়ের কাপড় ছাড়া কিছু নাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমার চোখ এখন যতদূর যায় সবই পুড়ে গেছে। কোনো ঘর নাই। শুধু ছাই।’’

শাকের তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিন বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন। মিয়ানমারের মংডু জেলায় তাদের বাড়ি।

শাহ আলম এবং সুলতানা ক্যাম্পেই ছিলেন। তারা জানান, আগুনের শিখা দেখেই তারা সবাইকে নিয়ে দ্রুত ক্যাম্প থেকে বের হয়ে যান। তবে পুরুষদের অধিকাংশই ক্যাম্পের বাইরে ছিলেন। কেউ তাদের সম্পদ রক্ষা করতে পারেননি।

ব্র্যাকের মানবিক প্রোগ্রামের পরিচালক সাজেদুল হাসান জানান, ‘‘অনেক শিশু ডিসপ্লেসড হয়ে গেছে। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রাকের পক্ষ থেকে একটি সেন্টার খুলে নিখোঁজ শিশুদের তালিকা করে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের সীমিত আকারে শুকনা ও রান্না করা খাবার দেয়া হচ্ছে। তাদের তাঁবুও দেয়া হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় আপ্রতুল।’’

স্থানীয় সূত্র থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ২০০ শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়া পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সাতটি শিশুকে খঁজে বের করেছেন ব্র্যকের ভলান্টিয়াররা।

কারণ অজানা

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, আগুনের কারণ জানা যায়নি। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালকের (অপারেশন) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এত বড় আগুনের ঘটনা অতীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আর কখনো ঘটেনি। রোহিঙ্গা নেতা ইউনূস আরমান বলেন, এত বড় আগুনের ঘটনা কীভাবে ঘটল তা এখন জানা যায়নি। আগুন এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। সাজেদুল হাসান বলেন, বাঁশ কাঠের কারণে সম্ভবত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, আগুনের মহড়া হয় সেখানে। ফায়ার ফাইটিং-এর কিছু সরঞ্জামও আছে। তবে তার কিছু ব্যবহার করা যায়নি।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে। তদের সাতটি ইউনিট কাজ করে।

সর্বশেষ নিউজ