৫, জুলাই, ২০২২, মঙ্গলবার

লক্ষীছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের নীড়ে ৭০০ পরিবার

জসিম উদ্দিন জয়নাল,খাগড়াছড়িঃ পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে মুজিববর্ষে প্রতিবন্ধী, বিধবা,হত দরিদ্র, গৃহহীন পরিবার পেলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের ঠিকানা।উপজেলার হতদরিদ্র দুস্হ প্রতিবন্ধী, স্বামীহারা বিধবা নারীসহ ৭০০টি অসহায় হতদরিদ্র গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।

খাগড়াছড়ি জেলাপ্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের সার্বিক তদারকিতে লক্ষীছড়িতে দায়িত্বরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় লক্ষীছড়িতে স্বপ্নের ঠিকানা পেলো ৭০০ পরিবার। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নের মধ্যে লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউনিয়নে ৩৩২টি, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ১৯১টি ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ১৭৭টি পরিবারের জন্য ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের দূর্গম এলাকায় হতদরিদ্র দুস্হ প্রতিবন্ধী বিধবা নারীসহ অসহায় মানুষদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পৌঁছে দিয়েছে লক্ষীছড়ি উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে লক্ষীছড়ি উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের দূর্গম এলাকায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির তত্বাবধানে ঘরগুলো অত্যন্ত মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উপকারভোগী লক্ষীছড়ি সদর ইউনিয়নের ময়ুরখীলের বিধবা আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই আমি পরের জায়গায় দিনমজুরী করে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয় আমার সংসারে উপার্জন করার মত কেউ নেই,অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন সরকারি ঘর পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আবেগাপ্লত কণ্ঠে উপকারভোগী দূর্গম বর্মাছড়ি ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকার গৃহহীন ইন্দ্র কুমার চাকমা, বলেন,সারাজীবনের চেষ্টায়ও যে মাথা গোজার ঠাঁই করতে পারেননি, অনায়াসে স্বপ্নের সেই বসত ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভূলেননি তারা।

লক্ষীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:ইয়াছিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে লক্ষীছড়ি উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ৭০০টি ঘর বরাদ্ধ পেয়েছি। গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলি সচ্চভাবে করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ করে দিয়েছি। তদারকি কর্মকর্তাদের যাচাই -বাচাই করে হতদরিদ্র,দুস্হ, প্রতিবন্ধি, বিধবাদের অগ্রধিকার ভিওিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে প্রকৃত যে ঘর পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হয়েছে।

ইতি মধ্যে ৬৬৪টি ঘর নির্মাণ কাজ শতভাগ হয়েছে। ৩৬টি ঘরের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে কাজ শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে গৃহহীনদের বুঝিয়ে দিতে উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে। মোট লক্ষীছড়ি উপজেলায় ৭০০টি গৃহ নির্মাণের কাজ বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন করেন গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন-সচিব, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারা সকলেই ঘরগুলোর গুণগত মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষরা কোথায় থাকতো, কিভাবে দিন কাটাতো তাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটির ফল আজ ভোগ করছেন পাহাড়ের গৃহহীন, ভূমিহীন অসহায় পরিবার।

সর্বশেষ নিউজ