২১, জানুয়ারী, ২০২২, শুক্রবার

ল্যাব নেই পরীক্ষা নেই, কোথায় দাঁড়াবে মানুষ?

দেশে করোনার সংক্রমণ আবারও ভয়াবহ আকারে বেড়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় বড় শহরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও নতুন করে করোনার বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করছে।

জেলা বিবেচনায় দেশে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে মৌলভীবাজারে। অথচ প্রবাসী অধ্যুষিত জেলাটিতে করোনার নমুনা পরীক্ষার কোনও ল্যাবই নেই। যে কারণে পরীক্ষার জন্য নমুনা হয় ঢাকা, নয়তো সিলেটে পাঠাতে হয়। আর তাতে করে রিপোর্ট পেতেও অনেকটা সময় লেগে যায়। এটিও ওই অঞ্চলে সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৯৫৪টি বেশি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ও সিলেটে পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ১৮৫টি পজিটিভ এসেছে, আর ১৩০ জনের দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষায়ও পজিটিভ এসেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ জেলায় সংক্রমণের হার ছিল ৫ শতাংশ। মার্চের প্রথম ২০ দিনে তা বেড়ে হয় ২২ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি এপ্রিল মাসেও এ হার বেড়েই চলেছে।

মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন রোগী শনাক্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত বছর মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন। কিন্তু আরও স্থাপন হয়নি কোনও ল্যাব।

জেলার বাসিন্দারা বলছেন, করোনার মহামারির সময়ে অনেকেই বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। তারা কোয়ারেন্টিন পালন না করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করছেন। এতে সংক্রমণ আরও বাড়ছে।

জেলায় সরকারি হিসাব মতে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন জেলার বাইরে চিকিৎসা নিয়ে মারা গেছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ও সিলেটে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে ফলাফল আসতে ৫-৭ দিন সময় লেগে যায়। দূরের ল্যাবে নমুনা পাঠানোর কারণে বিভিন্ন সময় অনেক নমুনা নষ্টও হয়ে যায়।

গত ২১ থেকে ৩১ মার্চ জেলায় ৪১৪টি নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে ৯২টি, ২২ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি মাসের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৬টি নমুনায় পজিটিভ ২৫টি, ২৫ শতাংশ। ১১ এপ্রিল ৫২টিতে ১৩টি, ২৫ শতাংশ। ১২ এপ্রিল ৬১টিতে ১৪টি, ২৩ শতাংশ। ১৩ এপ্রিল ১১৭টি পরীক্ষায় ২৩টি পজিটিভ এসেছে, শনাক্তের হার ২৩।

করোনার টিকা নেয়ার জন্য জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকার নিয়েছেন ৬৫ হাজার ৬৩৬ জন। দ্বিতীয় ধাপে টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ১৯৪ জন। জেলায় মোট টিকা এসেছে ১১ হাজার ৪৮৮ ভায়াল। মজুত আছে ৩ হাজার ৯৭৩ ভায়াল। প্রতি ভায়ালে টিকা নিতে পারে ১০ জন।

করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য জেলায় সদর হাসপাতালসহ ৬টি উপজেলা হাসপাতালে মোট ১৪১টি বেড বরাদ্দ রয়েছে। যার মধ্যে ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ৫টি আইসিইউ বেড ও ৫০টি সাধারণ বেড আছে। এছাড়া রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০টি, কুলাউড়ায় ৫টি, জুড়ীতে ১৮টি, বড়লেখায় ৫টি, কমলগঞ্জে ২০টি ও শ্রীমঙ্গলে ৮টি বেড রয়েছে।

সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানিয়েছেন, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছিল। তবে এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। সদর হাসপাতালে যক্ষ্মা রোগ পরীক্ষার যে জিন এক্সপার্ট মেশিন রয়েছে, আপাতত তা দিয়েই করোনার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পার্থ সারথী দত্ত কানুনগো জানিয়েছেন, তবে যক্ষ্মা রোগ পরীক্ষার জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য আলাদা ট্রেনিং প্রয়োজন। এজন্য আলাদা কিটও প্রয়োজন। আর এ মেশিন দিয়ে গোটা দিনে বড়জোর ৮টি টেস্ট করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ নিউজ