৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

শরীয়তপুরের জাজিরা টিএন্ডটি অফিসের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার (বিটিসিএল) অফিসের সামনে শরীয়তপুর- মাঝিরঘাট মহাসড়কের পাশের্^ টি (বিটিসিএল) সরকারী জায়গা দখল করে ছোট বড় বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাট নির্মান করেছে স্থানীয়রা। আর এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করার মৌখিক অনুমতি দিয়ে বিটিসিএল এক কর্মকর্তা মাসিক ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিটিসিএল কর্মকর্তা বলছেন, এ সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। পাশাপাশি এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, উচ্ছেদের বিষয়ে বিটিসিএল কর্তপক্ষের কোন আগ্রহ নেই।

জাজিরা উপজেলা বিটিসিএল অফিস ও ব্যবসায়ী আতাউর রহমান জানান, শরীয়তপুর- মাঝির ঘাট মহাসড়কের পাশে^ জাজিরা উপজেলার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কো: লি: (বিটিসিএল) অফিসের সামনে প্রায় ২০ শতাংশ সরকারী জায়গা দখল করে ছোট বড় ১৭টি অবৈধ দোকানপাট নির্মান করেছে স্থানীয়রা। এ দোকান নিমার্নের মৌখিক ভাবে অনুমতি দিয়েছেন জাজিরা উপজেলা (বিটিসিএল) এর ম্যানেজার জাকির হোসেন। তিনি নিয়মিত মাসিক ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সরকারী জায়গা দখল করে অবৈধ ভাবে দোকান পাট নির্মান করায় করায় বিপাকে পড়েছে বাস যাত্রীসহ সাধারন পথচারীরা। এদিকে এ সকল অবৈধ দোকানপাট থেকে (বিটিসিএল) কর্মকর্তা জাকির হোসেন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সরকারী জায়গায় অবৈধভাবে দোকানপাট করে জায়গা দখলের বিষয়টি জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা সাপেক্ষে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হয় একাধিক বার। এরপরেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে জাজিরা উপজেলা (বিটিসিএল) কর্মকর্তা জাকির হোসেন জেলা প্রশাসক বরাবরে উচ্ছেদের আবেদনের কথা বললেও উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা বলছেন ভিন্ন কথা।
ব্যবসায়ী মোঃ হারুনুর রহমান বলেন, সরকারী জায়গায় আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে ব্যবসা করে আসছি। সরকার বললে আমরা চলে যাব। তবে আমরা নিয়মিত মাসিক ভাড়া দিয়ে থাকছি।
ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ঘর তোলার সময় প্রশাসনের লোকজন আসছিল। তখন আমরা বলেছি আপনারা যখন নিয়ে যাবেন আমরা তখন চলে যাব।
ব্যবসায়ী মো: ওয়াসিম বলেন, আমরা নিয়মিত মাসোহারা দেয় ম্যানেজার জাকির হোসেনকে। দোকান নেয়ার সময় তাকে এককালীন টাকা দিয়েছি।

জাজিরা উপজেলা টিএন্ডটি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ঠিক না। আমি (বিটিসিএল) জায়গায় কাউকে দোকান পাট তোলার অনুমতি দেয়নি। আমি কোন টাকাও পয়সা ও নেইনি।
জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইদ্রিস মাদবর বলেন, এ এলাকাটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন। (বিটিসিএল) অফিসের সামনে কয়েকটি অবৈধ দোকানপাট স্থাপন করে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছে। তবে টিএন্ডটির লোকজন আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে উচ্ছেদের ব্যাপারে আমরা সহযোগীতা করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুজ্জামান ভুইয়া বলেন, জাজিরা উপজেলার (বিটিসিএল) জায়গায় যে অবৈধ দোকান পাট গড়ে তুলেছে তা উচ্ছেদের ব্যাপারে (বিটিসিএল) পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে আমরা সহায়তা করবো। তবে তাদের পক্ষ থেকে আমরা এখন ও কোন লিখিত আবেদন পাইনি।

সর্বশেষ নিউজ