২৭, অক্টোবর, ২০২১, বুধবার

শরীয়তপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৪ জনকে কুপিয়ে মারান্তক জখম করেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার লোকজন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতরা লিখিত অভিযোগ দিলেও গত ৫ দিনেও মামলা নেয়নি পালং মডেল থানায় গেলে পুলিশ। প্রশাসনের এক বড় কর্মকর্তার আতœীয় হওয়ায় মামলা নিতে ঘরিমসি করছে পুলিশ।

শনিবার রাতে শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার চিতুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা করতে গেলে গত ৫ দিনেরও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে আহতরা জানান। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা বলেন, স্থাণীয় নেতারা আপস মিমাংসা কথা বলায় মামলা নেয়া হয়নি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম পেদা, মো: সাগর আহম্মেদ রিপন ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউয়িনের ৮নং ওয়ার্ডেও উত্তর কান্দি গ্রামের অলিউর রহমান সরদার দীর্ঘ দিন ধরে ঐ এলাকায় জুয়ার বোর্ড, মাদক ব্যবসা করে আসছে। স্থানীয়রা বাধা দিলে এ ঘটনার জের ধরে মঞ্জুর আলম সরদার, মো. শফিকুল ইসলাম পেদা, মো: সাগর আহম্মেদ রিপন সাথে বিরোধ চলে আসছিল। তার জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় চিতলিয়া ইউনিয়নের সমিতি বাজার দিয়ে সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক সফিক পেদা, আতাউর রহমান পেদা, শাহ আলম পেদা ও জাকির হোসেন এই ইউনিয়নের খা কান্দি যাচ্ছিলেন। পথে মধ্যে ৮ নং ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার অলিউর রহমান সরদার ও তার লোজকন নিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে শফিক পেদা (৩৫) আতাউর রহমান পেদা (৪৫) শাহ আলম পেদা(৩৮) ও জাকির হোসেন পেদা (৩০) কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

স্থানীয়রা তাদেরকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঐদিন রাতে পালং মডেল থানায় মামলা করতে যায়। কিন্তু পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো : আকতার হোসেন আপস মিমাংসার অযুহাতে মামলা না নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয়। গত ৫ দিনেও একাধিকবার থানায় মামলা করতে গেলে তালবাহান শুরু করে পালং থানার ওসি। মামলা করতে থানায় গেলে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ফোন দিয়ে তদবির করার ওসি বলে জানান আহত শাহ আলম পেদা। অপর দিকে সাবেক ইউপি সদস্য অলিউর রহমান সরদারের এক নিকট আতœীয় রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনের এক বড় কর্মকর্তা হওয়ায় মামলা নিতে ঘরিমসি করছে পুলিশ। মামলা না নেয়ায় চরম আতংক রয়েছে আহতরা। পরিবারের লোকজন রয়েছে শংকায়।

এ ব্যাপারে আহত আতাউর পেদা বলেন, অলিউর রহমান সরদারের ভাগিনা রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যাবস্থা নেয় না। আমরা থানায় মামলা করতে গেলে। পুলিশ কোন মামলা নেয়নি উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাব ব্যবহার করে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

এ ব্যপারে আহত শাহ আলম পেদা ও মঞ্জুর আলম সরদার বলেন, অলিউর রহমান সরদারের ভাগিনা আবদুর জলির মাদবর রাজশাহী বিভাগে প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা। তার প্রভাবে অলিউর রহমান সরদার এলাকায় জুয়ার বোর্ড, মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় না। উল্টো পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা তাদের সহায়তা করে।
এ ব্যাপারে সাবেক চিতলীয়া ইউপি ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য অলিউর রহমান সরদার বলেন, সমিতির বাজারে আমার একজন লোক সফি পেদা মারধর করেছে। সেখানে আমার লোক হারুন হাওলাদার মিমাংসার জন্য গেলে, তারা অস্ত্র নিয়ে আমার ভাই ও আমার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে। এতে আমার পক্ষের ৩ জন আহত হয়। জুয়ার বোর্ড ও মাদক কেনা বেচার বিষয়ে কথা জিজ্ঞাস করলে তিনি ফোন কেটে দেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আক্তার হোসেন বলেন, ঘটনার দিন আমি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে আসছি। আহত শফিকুল ইসলাম পেদা লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসছিল। স্থানীয় নেতারা মিমাংসা করে দিবে বলে, আমি মামলা নেয়নি। পরে তারা আর আমার কাছে আসেনি।

সর্বশেষ নিউজ