২৭, অক্টোবর, ২০২১, বুধবার

শরীয়তপুরে যৌন হয়রানির স্বীকার নারী ডাক্তার, গ্রেফতার ৩ জন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের গাইনী জুনিয়র কন্সালটেন্ট এক নারী ডাক্তারকে যৌন হয়রানির স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঐ নারী চিকিৎসক ৩ জনকে আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আজ সোমবার সকালে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। দুপুরে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রেবাবার বিকালে শরীয়তপুর জেলা শহরের মেইন রোড়ে তামিম ফুড এ্যান্ড ফ্যামিলি সেন্টারের সামনে।

আটককৃতরা হলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার গ্রামের শাজহান কবীরের ছেলে রিদওয়ান কবীর (২৮), একই উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ফজলুল হক মোল্লার ছেলে বিল্লাল হোসেন মোল্লা (৫১) এবং তুলাসার গ্রামের তামিম ইলেকট্রনিক্স এর পিছনের এলাকার মৃত আব্দুল মালেক বেপারীর ছেলেআব্দুল আলীম বেপারী (৩৬)।

পালং মডেল থানা ও মামলা সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের গাইনী জুনিয়র কন্সালটেন্ট নারী ডাক্তার গতকাল রোববার বিকালে শরীয়তপুর জেলা শহরের সদর রোড়ে তামিম ফ্যামিলি ফুড সেন্টারে শপিং করতে যায়। পন্যক্রয় শেষে বিল পরিশোধ করতে গেলে পন্যনের দাম বেশী চায়। এ নিয়ে সেলসম্যানের সাথে নারী ডাক্তারের কথাকাটা কাটি হয়। এক পর্যায়ে পাশে দাড়িয়ে থাকা সাংবাদিক নামধারী রিদওয়ান কবীর, বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও সেলসম্যানের আঃ আলিম বেপারী নারী ডাক্তারকে ধমক দিয়ে বের হতে বলে। তখন নারী ডাক্তার মুল্য পরিশোধ করে বের হয়ে একটি রিক্সায় নিয়ে চলে যেতে চায়। এরপর তারা ডাক্তারের গতিরোধ করে,মাস্ক খুলতে বলে এবং ওড়না ধরে টান দেয়। বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়বানির চেষ্টা করে। এসব ঘটনার ভিডিও করতে থাকে তাদেও মধ্যে একজন।

এ সময় মিডিয়ায় প্রকাশ করে ডাক্তারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে পালং মডেল থানায় নারী ডাক্তার বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। পরে পালং মডেল থানার পুলিশ অভিযার চালিয়ে পালং বাজার থেকে৩ জনকেগ্রেফতার করে। আজ সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে প্রেরন করে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের গাইনী জুনিয়র কন্সালটেন্ট নারী ডাক্তার বলেন, আমি শরীয়তপুর শহরের সদর রোড়ে তামিম ফ্যামিলি ফুড সেন্টারে গেলে শপিং করতে গেলে সেখানে পন্যেও দাম নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় তারা আমাকে শ্লীলতা হানীর চেষ্টা করে। এবং নানা রকম হয়রানি করে। আমি এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।

পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ আক্তার হোসেন বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের গাইনী জুনিয়র কন্সালটেন্ট একজন নারী ডাক্তার এর যৌন হয়রানির অভিযোগে তিনি আজ সোমবার সকালে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপেক্ষিতে অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করে কোট হাজতে প্রেরন করি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডাঃ মুনির আহম্মেদ খান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাটি তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ঘটনাটি আমাদের হাসপাতলে ঘটেনি। সে ব্যাক্তিগত ভাবে থানায় মামলা দায়ের করেছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, নারী ডাক্তার আমাকে মৌখিতভাবে ঘটনাটি জানিয়েছেন। তাকে আমি লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি। এর পর তিনি আর আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।

সর্বশেষ নিউজ