৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

শরীয়তপুরে স্কুল ভবন হস্তান্তরের আগেই ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, ভিম কলামে ফাটল

নাছির আহম্মেদ আলী, শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুর সদর উপজেলায় একটি স্কুলের ভবন নির্মানের ১ বছরের মাথায় হসন্তরের পুর্বেই ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, ভিম- কলামে ফাটল,– খোলা যায়না দরজা জানালা, দেওয়া হয়নি ফ্যানের রেগুলেটর। নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ এলাকাবাসীর। ঠিকাদার বলছেন স্কুল নির্মান কাজে ত্রুটি থাকলে দেখিয়ে দিলে ঠিক করে দিব।

তবে আমার ফাইনাল বিল আটকিয়ে রাখা ঠিক হয়নি। শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, কিছু ত্রুটি আছে। ঠিকাদারকে ঠিক করে দিতে বলা হয়েছে। তার বিল আটকানো আছে।
৯৯নং খায়ের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তফা, স্থানীয় জসিম খান জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ৯৯নং খায়েরচরসরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। নতুন জাতীয়করণ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ ভবন নির্মানের দরপত্র আহবান করে।সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে মেসার্স ঢালী কনষ্টাকশন কাজটি পায়।

৬৪লাখ ৩৩ হাজার ৮৪৮ টাকা ব্যয়ে কাজটি করে স্থানীয় আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়র হোসেন হাওলাদার।চারতলাভবনটির দোতলার নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শেষহয়। নিম্ন মানের নির্মান সামগী দিয়ে কাজ করার কারনে
বিদ্যালয়ভবনের ভিম- কলাম সহ বিভিন্নঅংশেফাটলধরেছে। বৃষ্টিহলেই ছাদ চুইয়ে ক্লাসরুমে পানিপরে জমে থাকে। যে কোন সময়ভবনটিধসেপড়তেপারেবলে আশঙ্কা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।দরজা জানালা সহবিভিন্নজায়গায়ত্রুটিরয়েছেভবনটিতে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে পাঁচ কক্ষেরভবনটিবুঝিয়েনাদিতেইবিভিন্নঅংশেফাটল দেখা দিয়েছে, ফ্লোরেগর্তের সৃষ্টিহয়েছে।

বেশিরভাগ দরজা -জানালাবন্ধকরাযায়না। দরজায়নিন্মমানেরকাঠ, ফ্যানের কোনটিতেই রেগুলেটর দেয়া হয়নি, ফ্যান ও বৈদ্যুতিকতারনিন্মমানের। ভবনের দেয়ালেওবিভিন্নঅংশেঅসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানেশিক্ষার্থী রয়েছে ১০৪ জন। শিক্ষকআছেন ৪ জন।
৯৯ নং খায়ের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ শ্রেনীর ছাত্র সিহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের স্কলের ভিতরে বৃষ্টি নামলে ই পানি পরে । আমাদের বসতে সমস্যা হয়। স্কুলের মাটি বিক্রি করে দেওয়ার কারনে মাঠ নিচু হয়ে গেছে আমরা খেলতে পারি না।

বিদ্যালয়েরসহকারীশিক্ষকনাজমা ও জিয়াসমিন আক্তার বলেন, স্কুল ভবনের পূর্ব পাশে^র কক্ষটির কলম ও ফ্লরে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে।
স্থানীয় সিরাজ তালুকদার ওআব্দল জব্বার তালুকদার বলেন, স্কুলের নির্মানের শুরুতেই আমরা নিম্ন মানের কাজ দেখে বাদা দিয়ে ছিলাম কিন্তু চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিম্ম মানের সামগ্রী ব্যাবহার করে কাজ করেছেন। ফলে এখন আমাদের ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকরা মারাত্নক ঝুকির মধ্যে আছে।

স্কুল ভবন ফাটল ধরার বিষয়টি অস্বীকার করে আংগারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমারা স্কুল ভবন নির্মান করে তা হস্তান্তর করেছি। কে বা কারা অভিযোগ করেছে কাজটি সঠিক হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে কাজ কোথায় বাকী তা দেখিয়ে দিতে বলেছি। তারা আজ কাল করে কাল ক্ষেপন করছে। এ জন্য আমি বিষয়টি সমাধান করতে পারছিনা। ছাদ দিয়ে পানি পরার বিষয়ে তিনি বলেন কিছু জায়গায় ঢালাইয়ে শ্রমিকদের ভুলের কারনে নিচু হয়েছে। এতে সামান্য পানি পড়তে পারে । সে জায়গায় কিছু কাজ করে দিব।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কে এম রেজাউল করিম বলেন, আমরা স্কুল ভবন নির্মান কাজে কিছু ত্রুটি পেয়েছি।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে সমাধান করে দিতে বলেছি। তারা এখন ও সমাধান করে দেয়নি । তাই আমরা তাদের চুড়ান্ত বিল আটকিয়ে রেখেছি।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন ,ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমি অসুস্থতার কারনে যেতে পারিনি। নির্মান কাজের তধারকির দায়িত্ব সদর উপজেলা এলজি ইডির । তারা এখন ও আমাদের ভবনটি বুঝিয়ে দেয়নি। নতুন ভবনে পানি পরা বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।

সর্বশেষ নিউজ