১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

শান্ত হয়নি বসুরহাট, আতঙ্কে বাসিন্দারা, টহলে ৩০০ পুলিশ-র‌্যাব

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে জারি করা ১৪৪ ধারা সময় পার হলেও এখনও শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। চারপাশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে যেকোনও ধরনের সহিংস অবস্থা এড়াতে সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ১০০ জন করে পর্যায়ক্রমে মোতায়েন করা হয়েছে ৩০০ পুলিশ ও ১৬ জন র‌্যাব সদস্য। জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাঙামাটি থেকে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ও প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল ও বসুরহাটের পৌর মেয়র সেতুমন্ত্রীর ছোটভাই আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের পর উপজেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা শেষ হয়েছে বুধবার রাত ১২টায়। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি না করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বসুরহাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা ও টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকাল থেকেই বসুরহাটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সকালে বসুরহাটে থাকা বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ ইমরান জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সকাল থেকে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। টহলে র‌্যাব সদস্যরাও রয়েছেন। পৌর মেয়র কাদের মির্জাকে ১৫-২০ জন অনুসারী নিয়ে সকাল থেকে বিভিন্ন সড়কে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি শান্ত, সব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বসুরহাটে আপাতত কাউকে কোনও ধরনের সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বসুরহাট শহরের পৌরসভার গেট, রূপালী চত্বর, বঙ্গবন্ধু চত্বরসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের একাধিক দল শহরে টহল দিচ্ছে। সকাল ১০টার পর কিছু কিছু দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকার এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, পুলিশ-র‌্যাব থাকায় দোকান খুলছেন তারা। কিন্তু ভয় তাদের তাড়া করছে। আবার না জানি কখন গুলির শব্দ ভেসে আসে! ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে কাদের মির্জার লাগাতার নানা কর্মসূচির কারণে কার্যত তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও এই সময়ে অনেক কমে গেছে।

গেল মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) বিকেলে বসুরহাটের রূপালী চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা চলাকালে সভাস্থলের কয়েকশ গজ দূরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে সভার আয়োজনকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল ও কাদের মির্জার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। রাত ৯টার দিকে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হলে মিজানুরের সমর্থক শ্রমিক লীগ নেতা আলাউদ্দিন (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হন, আহত হন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক।

সর্বশেষ নিউজ