৪, আগস্ট, ২০২১, বুধবার

শৈশব থেকেই হাতসাফাইয়ে পাকা, গ্র্যাজুয়েশনের পরেও চুরির পেশায়!

একের পর এক চুরির ঘটনার কূলকিনারা করতে পারছিল না ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা পুলিশ। হাওড়া সাঁকরাইলের একটি চুরির ঘটনার অভিযোগের পর ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সৌমাল্য চৌধুরী ও তার সাগরেদদের রোববার মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশ।

ছোটবেলা থেকে হাতসাফাইয়ের অভ্যাস ছিল। নিজের বাড়ি, পাশের বাড়ি, প্রতিবেশী। এভাবেই রক্তে মিশে যায় চুরির অভ্যাস। প্রতিবেশীর ছোটখাট জিনিস চুরি করার সেই ছোটবেলার অভ্যাসকে, ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষে পেশা বানিয়ে ফেলেন সৌমাল্য।

সৌমাল্যের বরাতে পুলিশ জানায়, স্নাতকোত্তর করেও মনমতো চাকরি পাননি তিনি। সে জন্যই চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। গত ৩ বছরে আসানসোল হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬০টি চুরির ঘটনায় সৌমাল্য চৌধুরী যুক্ত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

৯ জুন হাওড়া আন্দুলের বাসিন্দা অভিজ্ঞান ঘোষ নামের এক ব্যক্তির বাড়ির আলমারি থেকে ১০ ভরি সোনার গয়না চুরি যায়। আলমারির চাবি যথাস্থানেই আছে। কিন্তু সোনাদানা নেই!

অভিজ্ঞানের মা তাকে জানান, দিন কয়েক আগে এক অপরিচিত যুবক স্কুটি নিয়ে পানি খেতে বাড়িতে এসেছিলেন। যুবকের চেহারার বর্ণনা দেন তার মা।

এরপর অভিজ্ঞান ঘোষ হাওড়া নাজিরগঞ্জ থানায় যান চুরির অভিযোগ জানাতে। তখন স্কুটি নিয়ে ওই থানার বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এক যুবককে। যার সঙ্গে তার মায়ের দেয়া বর্ণনার যুবকের মিল পান। বুদ্ধি করে সে সময় অভিজ্ঞান যুবকের স্কুটির নম্বর টুকে নেন।

অভিজ্ঞান এরপর নিজের কিছু সূত্র কাজে লাগিয়ে জানতে পারেন ওই স্কুটি আসানসোলে রেজিস্টার্ড। আসানসোল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জনতে পারেন স্কুটির মালিকের নাম সৌমাল্য চৌধুরী।

অভিজ্ঞানকে আসানসোল পুলিশ জানায়, এই সৌমাল্য চৌধুরীর নামে অসংখ্য চুরির অভিযোগ আছে।

অভিজ্ঞান বিস্তারিত জানান হাওড়ার নাজিরগঞ্জ থানাকে। তদন্তে নেমে হাওড়া সিটি পুলিশ বিভিন্ন রাস্তা, টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সৌমাল্য চৌধুরীকে শনাক্ত করে। এরপর অভিযানে নেমে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে সৌমাল্যর দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিজের স্কুটি নিয়ে আসানসোল, হাওড়া, হুগলি এলাকায় ঘুরে ঘুরে চুরির উদ্দেশ্যে রেকি করতেন সৌমাল্য।

কোন বাড়ির অবস্থা কী, বাড়ির লোকজন কখন থাকে, কখন থাকে না, আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না, নিরাপত্তা এবং পালানোর রাস্তা- সবকিছু বুঝে নিয়ে তারপর চুরি করতেন তিনি।

হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সাউথ প্রতীক্ষা ঝারখরিয়া জানান, গত কয়েকমাসে শুধুমাত্র হাওড়াতে ৬টি এবং আসানসোলে ১৬টি চুরির অভিযোগ রয়েছে সৌমাল্যর নামে। অভিযোগ আছে চন্দননগর পুলিশ কমিশন কার্যালয়ের এলাকাতেও।

জানা যায়, সৌমাল্যর বাবা সরকারি কর্মকর্তা, মা ছিলেন শিক্ষিকা। ছেলের কীর্তিতে বাবা-মা দুজনেই ছিলেন তিতিবিরক্ত। এমনকি ছেলের এমন কাজকর্মের জন্য লজ্জায় বিষ পান করে পৃথিবী ছেড়ে যান তার মা।

সর্বশেষ নিউজ