১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণ

শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দায়িত্বরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করলো বাংলাদেশ পুলিশ।

২০২০ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণে পালন করা হয় ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে ২০২১’। দেশের প্রতিটি পুলিশ ইউনিটে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানী ঢাকায় দিবসটি উদযাপন করা হয়।

এছাড়া, সকল রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়েও দিবসটি পালিত হয়। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান ইত্যাদি।

দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (১ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে নির্মিত অস্থায়ী পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ এবং জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

একটি চৌকস পুলিশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে।

পরে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে পিএসসি কনভেনশন হলে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিহত হন। তারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা যেন আমাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকেন।

কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যগণ আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো চরম আত্মত্যাগ প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেজন্য পুলিশ বাহিনীসহ সারাদেশ আজ গর্বিত।

তিনি বলেন, শুধু দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, করোনাকালেও পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছি আমরা। উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ত যদি নিরাপত্তা বিধান করা না যেত। পুলিশ বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করছে বলেই দেশ নিরাপদ রয়েছে।

সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, ২০১৯ সালে দায়িত্ব পালনকালে ১৭৯ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, ২০২০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ালো ২০৮। আমরা এ ধরনের অকাল মৃত্যু, অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। আমরা চাইবো কারো জন্য অকাল মৃত্যু না হয়, অস্বাভাবিক মৃত্যু না হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এখন যে কোন সংকট মোকাবেলায় সক্ষম। মানবিক পুলিশ হিসেবেও পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে। মানুষ যখন কোন সমস্যায় পড়ে তখনই পুলিশের শরণাপন্ন হয়। তাই আমরা বলি, পুলিশ হবে মানবিক, পুলিশ হবে জনতার। করোনা মহামারীকালে পুলিশ যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে, তা সত্যিই বিরল। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহানুভূতি নিয়ে কাজ করার এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ যে কোন সংকটে নির্ভিক চিত্তে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে বলেই দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় আছে, দেশের উন্নতি হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।

সর্বশেষ নিউজ