৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

শ্রীনগরে করোনায় পর্যটক শূণ্য স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্স

মোহন মোড়ল,শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগরে বিজ্ঞানী স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্সটি এখন প্রায় পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে। কঠোর লকডাউন শিথিল হলেও আগের মত পর্যটক আসছে না এখানে। বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীস চন্দ্র বসুর স্মৃতি চারণে রাঢ়িখালে তার পত্রিক ভিটায় ২০১১ সালে গড়ে তোলা হয় দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্সটি। এক সময় এখানে প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটলেও করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে কমপ্লেক্সটি প্রায় জন শূণ্য হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্স ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুবজ গাছ পালায় ঘেরা বিশাল জায়গা জুড়ে কমপ্লেক্সটির অবস্থান। দেখা গেছে, ১০/১২ জন পর্যটক কমপ্লেক্স ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্স চত্বর জুড়ে উপভোগের জন্য রয়েছে পিকনিক কর্নার, কৃত্রিম পাহাড়, লেক ও কাঠের পুল, কাচারি ঘর, পাকা ঘাটলাসহ বড় বড় দিঘি, কৃত্রিম জীবযন্তু ও পুরাতন দালান। এছাড়াও পর্যটকদের নজর কারবে স্যার জগদীস চন্দ্র বসু জাদুঘরটি। এখানে রাখা হয়েছে বিশ্ব বিজ্ঞানীর বর্ণাঢ্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব ইতিহাস, দুর্লভ কিছু ছবি। অথচ করোনা মোকাবেলায় পর্যটক বিহীন কমপ্লেক্সেটি যেন নিরিবিলি পরিবেশে বড় একা হয়ে গেছে।

লক্ষ্য করা যায় কমপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারে একজন বসে থাকতে। তিনি জানান তার নাম মো. মোবারক। কমপ্লেক্সটি শুরুর দিক থেকে কাউন্টারের দায়িত্বে আছেন তিনি। তিনি বলেন, লকডাউন শিথিলের পর এই প্রথম কমপ্লেক্সটি খোলা হয়েছে। এতোদিন বন্ধই ছিল। করোনা মোকাবেলায় দুই বছর যাবত এখানে তেমন কোনও পর্যটকের আগমণ নেই। আজ মাত্র ১৫টি টিকেট বিক্রি হয়েছে। একজন নৈশপ্রহরীসহ কমপ্লেক্সটির দেখভাল করেন তারা। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকাকালীন সময়ে দর্শনার্থীদের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কমপ্লেক্সটি খোলা থাকে।

এ সময় কমপ্লেক্স গেইটের বাহিরে মো. রিপন নামে এক চটপটির দোকানী বলেন, বহুদিন পরে এখানে দোকান খুলে বসেছেন। পর্যটক কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার কারণে তার ব্যবসাও বন্ধ ছিল। কমপ্লেক্সটি খোলা হলেও পর্যটকের আগমণ নেই। সারাদিনে মাত্র ২’শত টাকা বিক্রি হয়েছে। দেশে করোনা আসার আগে এখানে দৈনিক কয়েক হাজার টাকার চটপটি বিক্রি হতো জানান তিনি।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্সে প্রবেশ টিকেট মূল্য মাত্র ২০ টাকা। ৫ বছরের শিশুদের জন্য কোন টিকেট সংগ্রহ করতে হয় না। শিক্ষা সফর ও পিকনিকের জন্য দিতে হবে আগাম বুকিং (কমপ্লেক্স কাউন্টার ০১৭১৯-৩৪৩৫২০)। বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষা সফর ও পিকনিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং পর্যটকের আগমণ ঘটে স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্সে। এ বছর করোনার কারণে পর্যটকরা এসব সফরে আসতে পারবে কি’না এখনই তা বুঝা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ নিউজ