২৭, অক্টোবর, ২০২১, বুধবার

সংক্রমণ-মৃত্যুতে রেকর্ড, দিশেহারা ভারত

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। দেশটিতে সুনামির মতো বাড়ছে মহামারির প্রকোপ। রোগীরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন একটি বেডের জন্য। অক্সিজেন সঙ্কটে দেশটির প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল। দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত অনেক হাসপাতাল হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটি সংক্রমণ ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে, গতকাল বুধবার ভারতে নতুন করে করোনায় আরও ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গতদিন রেকর্ড সর্বাধিক ২ হাজার ১০২ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে করোনায়। যা এখন পর্যন্ত দেশটিতে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড।

টাইমস অব ইন্ডিয়া দুঃখজনক এই মাইলফলক স্পর্শ করার খবর জানিয়ে লিখেছে, চীন থেকে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর বিশ্বের আর কোনো দেশে একদিনে এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৮১ জন আক্রান্ত হয়েছিল।

ভারতে মাত্র ১৭ দিনে দৈনিক আক্রান্ত এক থেকে তিন লাখে গিয়ে ঠেকল। দ্বিতীয় দফায় প্রকোপ শুরুর পর গত ৪ এপ্রিল প্রথমবার ভারতে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়। এই সময়কালে ভারতে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা গড়ে ৬.৭৬ শতাংশ করে বেড়েছে।

ভারত বাদে এখন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্ত লাখ ছাড়িয়েছে। তবে ভারতে এখন যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তার গতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভারতে এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও পেছনে পড়ে যাবে।

তবে জনসংখ্যা বিবেচনায় প্রতি দশ লাখ মানুষে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনও রয়েছে শীর্ষে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে গড়ে ৯৭ হাজার ৮৮১ জন আক্রান্ত হয়েছে; যা ভারতের প্রতি দশ লাখে গড়ে ১১ হাজার ৪১৮ জনের তুলনায় অনেক বেশি।

পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দশ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় প্রাণহানি হয়েছে ১ হাজার ৭৫২ জনের; যা ভারতের প্রতি দশ লাখে ১৩২ জনের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি।

ভারতে করোনার প্রকোপে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এমনকি গত তিন দিন ভারতে করোনা নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারতে করোনার এই প্রকোপ শেষ হওয়া এখনো অনেক দূরে।

বুধবার ভারতের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রেকর্ড করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শীর্ষ আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৪৬৮ জন। উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ২১৪; যা মহারাষ্ট্রের বাইরে সর্বোচ্চ।

দিল্লিতে আক্রান্ত অবশ্য কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার ২৮ হাজার ৩৯৫ জন থাকলে বুধবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৬৩৮ জনে। বিশ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে আরও দুই রাজ্যে। রাজ্যগুলো হলো কর্নাটক ২৩ হাজার ৫৫৮ এবং কেরালা ২২ হাজার ৪১৪।

রাজস্থানে ১৪ হাজার ৬২২, মধ্যপ্রদেশে ১৩ হাজার ১০৭, গুজরাটে ১২ হাজার ৫৫৩, বিহার ১২ হাজার ২২২, তামিলনাডুতে ১১ হাজার ৬৮১, পশ্চিমবঙ্গে ১০ হাজার ৭৮৪, হরিয়ানায় ৯ হাজার ৬২৩, ঝাড়খণ্ডে ৫ হাজার ৪১, পাঞ্জাবে ৪ হাজার ৯৭০, উত্তরাখণ্ডে, ৪ হাজার ৮০৭, ওড়িষ্যায় ৪ হাজার ৮৫১, তেলেঙ্গানায় ৬ হাজার ৫৪২ জম্মু ও কাশ্মীরে ২ হাজার ২০৪ ও গোয়ায় ১ হাজার ৫০২।

ভারতে প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় দফার প্রকোপে বড় রাজ্য হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা এখনো কম রয়েছে শুধু অন্ধ্রপ্রদেশে। প্রথম দফায় রাজ্যটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮৩০ জন আক্রান্ত হলেও গতকাল বুধবারও তা ছিল ৯ হাজার ৭১৬ জন।

করোনায় প্রাণহানিতেও শীর্ষে রয়েছে ভারতের সবেচেয়ে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্র। গতদিন রাজ্যটিতে রেকর্ড সর্বাধিক ৫৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। দ্বিতীয় সর্বাধিক ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানী অঞ্চল দিল্লিতে।

এরপর গতদিন যথাক্রমে ছত্তিশগড়ে ১৯৩, গুজরাটে ১২৫, কর্নাটকে ১১৬, মধ্যপ্রদেশে ৭৫, পাঞ্জাবে ৬৯, ঝাড়খণ্ডে ৬২, রাজস্থানে ৬২, পশ্চিমবঙ্গে ৫৮ এবং তামিলনাডুতে ৫৩ জন কোভিড-১৯ রোগীর প্রাণহানি হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ