৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

সব বন্ধ হলেও কারখানা খোলা চান পোশাক মালিকরা

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গেল ২৯ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনার ১৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানাসমূহ ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। গর্ভবতী/অসুস্থ/বয়স ৫৫ ঊর্ধ্ব কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ওই নির্দেশনা জারির একদিন পরই ৩০ মার্চ ৫০ ভাগ নয়, শতভাগ জনবল নিয়েই প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা জানায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

তখন প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, অর্ধেক জনবল দিয়ে কারখানা পরিচালনার নির্দেশনাটি তৈরি পোশাক খাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে কারখানাগুলোতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ পর্যন্ত বাস্তবতায়ও তেমনই দেখা যায়। গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করলেও পোশাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেয়। অর্থনীতির চাঙ্গা রাখতে সঙ্গে অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানাও চালু রাখা যাবে বলে জানায়।

৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিনের লকডাউনে করোনা পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় এবার ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। যেকোনও সময় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

আগেরবারের মতো এবারও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা বেঁকে বসেছেন। তারা বলছেন, লকডাউনে সব বন্ধ রাখলে পোশাক কারখানা খোলা রাখতে হবে। অন্যথায় বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ হারাবে বাংলাদেশ। তাদের যুক্তি, কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দিলে তারা বাড়ি ফিরে যাবে। তাতে করে করোনার সংক্রমণ আরও বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।

এনিয়ে রবিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ অংশ নেন।

বৈঠক শেষে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন হলেও শিল্প কারখানা চলবে। লকডাউনে শিল্প কারখানা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। মানুষের চলাচলও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া ব্যাংকও বন্ধ থাকতে পারে। যদিও তাতে আমদানি-রফতানিতে সমস্যা হবে।’

তবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান মোহাম্মদ হাতেম।

সর্বাত্মক লকডাউনে শেষ পর্যন্ত পোশাকশিল্প মালিকদের দাবি বলবৎ থাকবে কিনা, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারির পরই সেটি জানা যাবে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে এ প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

গেল বছর দেশে করোনা মহামারি যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন পোশাক কারখানায় ছুটি ও হঠাৎ খুলে দেয়ার ‘আনাড়ি’ সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র জীবিকার তাগিদে বহু দূরের পথ পায়ে হেঁটেও অনেক পোশাক শ্রমিক কারখানার কাজে যোগ দেয় তখন। অনেক পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দিয়েই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। বহু পোশাক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়।

সর্বশেষ নিউজ