১৯, এপ্রিল, ২০২১, সোমবার

সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ল

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের সভায় আজ সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এ সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলমান লকডাউন ২১ তারিখ পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তার দুদিন আগেই জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে আজ লকডাউন একসপ্তাহ বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ভার্চুয়ালি আন্তমন্ত্রণালয়ের এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের লকডাউন বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।

লকডাউনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সরকার সারাদেশে আরো এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন বাড়ানোর সক্রিয় চিন্তা ভাবনা করছে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সরকার ঈদের আগে লকডাউন শিথিলেরও চিন্তা ভাবনা করছে।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া এ সর্বাত্মক লকডাউনের মধ্যেই আরও এক সপ্তাহ চলমান সর্বাত্মক লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। রবিবার (১৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সুপারিশ করা হয়।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক ভার্চুয়াল সভায় করোনা সংক্রমণ এর অবস্থা ও প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সারাদেশে কোভিড-১৯ এর উচ্চ সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন সুপারিশ করেছিল। সরকার ইতোমধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে। কমিটি এতে সন্তোষ প্রকাশ করে। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না।

দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় লকডাউনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে। পাশাপাশি সভা সামাজিক সমতার বিষয়েও নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সর্বশেষ নিউজ