২০, মে, ২০২২, শুক্রবার

সৈকতে উৎসব-উল্লাসে মেতে উঠেছেন লাখো পর্যটক

বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি ও লোনাজলে উৎসব-উল্লাসে মেতে উঠেছেন লাখো পর্যটক। সৈকতের যেদিকে চোখ যায় মানুষ আর মানুষের ঢল।

ঈদের প্রথম দিনের চেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে কয়েকগুণ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রীতিমতো তিলধারণের ঠাঁই নেই সৈকতে। হোটেল ছেড়ে ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৈকতে নেমেছেন লাখো পর্যটক।

একইভাবে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটোয়ার টেক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির এবং চকরিয়ায় অবস্থিত ডুলহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার ঈদের টানা ছুটি শেষ হলেও আগামী ৯ মে পর্যন্ত কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ৫ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে ১০ লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার বিকালে সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, বুধবারের মতোই সৈকতের যেদিকে চোখ যায় মানুষ আর মানুষের ঢল। সৈকতের বালিয়াড়ি ও লোনাজলে উৎসব- উল্লাসে মেতে উঠেছেন লাখো পর্যটক।

ঢাকার আজিমপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি মো. কায়সার ও সাকিলা জানান, দুই বছর পর করোনার বিধিনিষেধ না থাকায় বুধবার সকালে সপরিবারে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন তারা। উঠেছেন তারকা মানের লংবিচে। কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখে করোনামুক্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় উৎসাহিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই দম্পতি। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তাদের।

প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন ঢাকার মিরপুর-২ থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে আসা শামিমা আক্তার, মো. সেলিম উদ্দিন রায়হানসহ অনেকেই।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সি সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, ঈদের প্রথম দিনের চেয়ে দ্বিতীয় দিনে কয়েকগুণ বেশি প্রায় ২ লাখ পর্যটক এসেছেন। ঈদের তৃতীয়দিন বৃহস্পতিবার আরও বেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন।

তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৈকতের বেশি গভীরে যাতে কেউ না যায় সেজন্য বারবার সতর্ক সংকেত দিয়ে পর্যটকদের সাবধান করা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ঈদের প্রথম দিনে সৈকতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার মতো পর্যটকের উপস্থিত ছিল। ঈদের দ্বিতীয় দিনে দুই লক্ষাধিক পর্যটক সৈকতে নেমেছেন। তৃতীয় বৃহস্পতিবারও দুই লাখের বেশি পর্যটক সৈকতে পরিলক্ষিত হয়েছে। সেই হিসাবে ইতোমধ্যে ঈদের তিন দিনে ৫ লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।

তিনি বলেন, দিনে দুই লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসলেও অন্তত দেড় লাখ পরেরদিন বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। হয়তো অর্ধলাখ মতো পর্যটক একদিনের অধিক কক্সবাজারে অবস্থান করে থাকেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম আরও বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও আগামী ৯ মে পর্যন্ত একইভাবে পর্যটকদের আগমন থাকবে। এ সময়ের মধ্যে ১০ লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারেন।

বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সৈকতে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কক্সবাজার হোটেলের মালিকরা বলছেন, ঈদের টানা সাত দিনের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন অন্তত ১০ লাখ পর্যটক। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজের ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের সাত দিনের ছুটিতে প্রতিদিন দেড় দুই লাখ করে ১০ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। ঈদের প্রথম দিনের চেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন পর্যটকদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আগমনে বেচা বিক্রি বেশি হওয়ায় খুশি সৈকতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও। সৈকতের সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্টের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন থেকে তাদের আশানুরূপ বেচাবিক্রি হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা তাদের।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের সব বিভাগের সমন্বয়ে ঈদের দিন হতে পরবর্তী সাতদিন জেলাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত কক্ষ ভাড়া যেন আদায় না হয়, সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছেন জেলা প্রশাসনের পৃথক চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সর্বশেষ নিউজ